আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ইরান যুক্তরাজ্যের ‘লক্ষ্যবস্তু’ করেছে, এমন কোনো "বিশ্বাসযোগ্য তথ্য' দেশটির সরকারের কাছে নেই।
সম্প্রতি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ব্রিটেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার মধ্যে রয়েছে কী না - এমন প্রশ্নের জবাবে সোমবার এই মন্তব্য করেন স্টারমার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকার সর্বদাই নিরাপত্তার জন্য নিজেরা পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করে থাকে এবং এই মূহুর্তে আমাদের কাছে এমন কোনো মূল্যায়ন নেই যে আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’
উত্তেজনা প্রশমনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধে না জড়িয়ে কীভাবে ব্রিটিশ স্বার্থ এবং জীবন রক্ষা করা যায় সেটি তার সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ’।
তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার যেকোনো উদ্যোগ নিতে হলে তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।’
প্রসঙ্গত, ভারত মহাসাগরের ডিয়েগো গার্সিয়ায় অবস্থিত একটি মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটির দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা জন্ম দিয়েছে ইরান। যদিও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাটি ব্যর্থ হয়েছে, মাঝ পথেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের এই প্রচেষ্টা চলমান যুদ্ধের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে আসল সক্ষমতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিয়েগো গার্সিয়া ইরান থেকে প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং তেহরান প্রকাশ্যে দাবি করে, তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ইরান যদি সত্যিই প্রকাশ্যে ঘোষিত এই সীমার দ্বিগুণ পাল্লার কোনো হামলা চালানোর চেষ্টা করে থাকে, তার মানে হলো ইরানের এমন অঘোষিত সক্ষমতা রয়েছে, যা সম্পর্কে বিশ্ব জানে না।
এর মধ্যেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করে, ‘ইরানের কাছে এখন এমন ক্ষেপণাস্ত্র আছে যা লন্ডন, প্যারিস বা বার্লিনে পৌঁছাতে সক্ষম’। এরপরই বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও ডিয়েগো গার্সিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবরের বিষয়ে ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর