আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ মার্চ ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো এই ঘোষণা দেয়।
বিবৃতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের আহ্বান ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানোসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।
দেশগুলো বলেছে, ‘আমরা পারস্য উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা, তেল ও গ্যাস স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং ইরানি বাহিনী কর্তৃক হরমুজ প্রণালীর কার্যত অবরোধের তীব্র নিন্দা জানাই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত নিয়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা ইরানকে অবিলম্বে তার হুমকি, মাইন স্থাপন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালীটি অবরুদ্ধ করার অন্যান্য প্রচেষ্টা বন্ধ করতে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাব মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে যেসব দেশ প্রাথমিকভাবে উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তবে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি বা নৌবহর পাঠানোর বিষয়ে স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে গত ২০ দিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।
সংকট মোকাবিলা ও হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ডাকে সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর