বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, প্রস্তাব অনুযায়ী- হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব দেশের জাহাজ পণ্য পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ বা খাদ্য আমদানি-রফতানির কাজে চলাচল করবে, তাদের ইরানকে নির্দিষ্ট টোল ও কর পরিশোধ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন আরও বলা হয়, তেহরানের ওয়ালিআসর স্কয়ারে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইরানি সংসদ সদস্য সোমায়ে রাফিই বলেন, ‘আমরা সংসদে এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার অধীনে হরমুজ প্রণালীকে ট্রানজিট, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি নিরাপদ পথ হিসেবে ব্যবহার করা হলে বিভিন্ন দেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে টোল ও কর প্রদান করবে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শত্রুদের আগের সেই আরাম-আয়েশ কেড়ে নিয়েছি, এবং তারা এখন এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না। তারা এটি সহ্য করতে পারছে না।’
রাফিই আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এ যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে ইরানের এক চূড়ান্ত ও নিশ্চিত বিজয়ের মাধ্যমে এবং এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত আমাদের শত্রুদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়েই থাকবে।’
এরআগে মঙ্গলবার ইরানি সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ বলেন, সামুদ্রিক চলাচল ‘যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে না’। ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর ওপর বিশেষ সামুদ্রিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।
সংকট মোকাবিলা ও হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ডাকে সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করছে। সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ফ্রান্স। এরপর একই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং গ্রিস।
সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি
এমএইচআর

