আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
নেপালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে জেন জি-দের (তরুণ প্রজন্ম) পছন্দের দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)।
ওই দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহ (‘বলেন’ নামে যিনি পরিচিত) ঝাপা-৫ আসনে হারিয়েছেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-এর (ইউএমএল) প্রধান কেপি শর্মা ওলিকে।
জেন জির আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের জেরে গত ৯ সেপ্টেম্বের নেপালে পতন হয়েছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ওলির সরকারের।
নেপাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর ২৭৫ আসনের সদস্যদের নির্বাচিত করতে গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জোড়া ব্যালটে ভোট দিয়েছিল নেপাল। এর মধ্যে ১৬৫টিতে প্রত্যক্ষ এবং ১১০টিতে পরোক্ষ (সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতিতে) নির্বাচন হয়েছিল।
প্রত্যক্ষ নির্বাচনের গণনার ফল এবং প্রবণতা বলছে ১১২টি আসন পেতে যাচ্ছে আরএসপি। নেপালের নির্বাচনী ইতিহাসে যা সর্বকালীন রেকর্ড।
কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপাল-এর (ইউএমএল) ১২, সে দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস ১০ এবং সাবেক মাওবাদী গেরিলা নেতা তথা আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহাল ওরফে প্রচণ্ডর দল নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি ৬টি আসনে জিততে যাচ্ছে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
জেন জির আন্দোলনে ওলি সরকারের পতনের পর দফায় দফায় রাজতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে নেপালে আন্দোলন করেছে রাজেন্দ্র লিংডেনের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি।
কিন্তু ভোটের ফল বলছে, তাদের ঝুলিতে আসতে পারে মাত্র একটি আসন। অন্য ছোট দলগুলি এবং নির্দলীয় প্রার্থীরা মিলে ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর প্রত্যক্ষ নির্বাচনে জিততে পারে আটটি আসনে।
অতীতে কয়েকটি নির্বাচনে নেপালের তরাই (সমতল) এলাকার বাসিন্দা মধেশীয়দের দলগুলি ভাল ফল করেছিল। কিন্তু এবার সেই সব এলাকায় প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য আরএসপির।
পিআর পদ্ধতিতে বাকি ১১০টি আসনে একটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোট এবং আসনের অনুপাত হিসাব করে সংশ্লিষ্ট দলের মনোনীত প্রার্থীদের ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর সদস্যপদ দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে সাবেক র্যাপার গায়ক তথা রাজধানী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্রর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়া কার্যত নিশ্চিত।
যদিও ইতিহাস বলছে ৩৫ বছরের বলেন্দ্রর সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। নেপাল কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকে দেশটিতে ৩২ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে।
তা ছাড়া, কমিউনিস্ট পার্টি বা নেপালি কংগ্রেসের মতো পুরনো দলগুলির পোড় খাওয়া নেতারা দল ভাঙিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে সিদ্ধহস্ত। অতীতে বার বার তার নজিরও দেখা গিয়েছে।
-এমএমএস