আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবরে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম।
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনির নিহত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের ঐতিহাসিক লালচকসহ উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী তীব্র স্লোগান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শ্রীনগর ও বুদগামের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শ্রীনগরের লালচক। বিশাল জনতা খামেনির ছবি হাতে শোকমিছিলে অংশ নেয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিয়া সম্প্রদায়ের নারীদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শ্রীনগরের সাইদা কাদাল ও বুদগামের মতো শিয়াঅধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত বনধ পালিত হচ্ছে। এদিকে জম্মু–কাশ্মীরের বিশিষ্ট আলেম মীরওয়াইজ উমর ফারুক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং শোক পালনের ডাক দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: এবার ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
সেখানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেওয়া ৪০ বছর বয়সী সৈয়দ তৌফিক এএফপিকে বলেছেন, ‘আজ আমাদের সবার হৃদয় ভারাক্রান্ত। আমরা আমাদের প্রিয় নেতাকে হারানোর শোক পালন করছি।’
সৈয়দ তৌফিক আরও বলেন, ‘ট্রাম্পের জন্য আমাদের সবার একটি বার্তা আছে। আমরা সব সময় আপনার নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। আপনি যদি মনে করেন আমাদের প্রিয় নেতাকে শহীদ করে আপনি সফল হয়েছেন, তবে আপনি ভ্রান্তিতে আছেন।’
কাশ্মীরের পাশাপাশি শিয়া মুসলিম আছে- ভারতের এমন এলাকাতেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
বিক্ষোভের আঁচ পৌঁছেছে উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউতেও। সেখানেও শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রাস্তায় নেমে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে এবং হামলাকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। লখনউয়ের ইমামবাড়া-সংলগ্ন এলাকায় শোকাতুর নারীদের বিলাপ করতে দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি এখনো থমথমে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত বাহিনী টহল দিচ্ছে।
এআর