আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩২ এএম
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের ট্রু প্রমিজ-৪ সেনা অভিযানের ৫ম দফার হামলা শুরু করেছে।
এতে কেবল ইসরায়েল নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন নৌবাহিনী ও ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মুহুর্মুহু হামলা চালাচ্ছে ইরান।
ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অসংখ্য মিসাইল ছুড়েছে ইরান। ছোট ও বড় আকারে এসব মিসাইল ছুড়ছে তেহরান। এরমধ্যে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৩০টি ব্যালাস্টিক মিসাইল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
এরমধ্যে একটি হামলায় ইসরায়েলের তেলআবিবে ২০ জন আহত ও এক নারী নিহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ছিল।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনী আরেকটি মিসাইল ব্যারেজ শনাক্ত করেছ। যেটি এখন ইসরায়েলের দিকে ছুটে আসছে। এসব মিসাইল ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলে আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এরআগে উত্তরাঞ্চলে ঢুকে পড়ে ইরানি ড্রোন। তবে এসব ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে ইরানকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যে ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানে আরেক দফা হামলা চালাতে যাচ্ছে।
এদিকে, আইআরজিসি জানিয়েছে যে কুয়েতের আবদুল্লাহ আল-মুবারক বিমান ঘাঁটিতে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ঘাঁটিতে ১২টি ড্রোন হামলাও চালানো হয়েছে, যার ফলে এর প্রধান অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ফলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত ও আহত হয়েছে। এ সংখ্যা দুই শতাধিক বলে ইরানের ধারণা।
এ ছাড়াও ইরান মার্কিন বিশেষ বাহিনীর আবাসস্থল ইরাকের হারির ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি আরও জানিয়েছে, আবর আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে মার্কিন জাহাজে গোলাবারুদ পরিবহনের কাজে নিয়োজিত একটি এমএসপি জাহাজে চারটি ড্রোন হামলা করা হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং ধারাবাহিক বিস্ফোরণের কারণে জাহাজটি পরিষেবা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও, ভারত মহাসাগরে মার্কিন জাহাজে জ্বালানি সরবরাহের জন্য নিযুক্ত একটি যুদ্ধ সহায়তাকারী জাহাজ ইরানের কাদর-৩৮০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরানের হামলায় তেলআবিবসহ ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজছে। এর মাধ্যমে দেশটির জনগণকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।
উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধ এড়াতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে যৌথভাবে তেহরানে হামলা শুরু করেছে।
২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইরাক আক্রমণের দীর্ঘদিন পর আবার এ বছর ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তম মার্কিন সামরিক সমাবেশ গঠনের নির্দেশ দেয়।
এর আগে গত বছরের জুনেও আগ বাড়িয়ে ইসরায়েল ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করে, যার ফলে টানা ১২ দিন যুদ্ধ চলে ইরানের সঙ্গে। অবশেষে আমেরিকা ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
এর পর ৩ দফা ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমাবদ্ধ করার পাশাপাশি গাজার হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথিসহ এই অঞ্চলে প্রক্সিদের সমর্থন বন্ধ করার বিষয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে ইরান বলেছে যে, এই দাবিগুলি তার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এবং আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও ফার্স নিউজ এজেন্সি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি আজ রোববার (১ মার্চ) সকালে জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।
তাসনিম নিউজে এজেন্সি জানায়, ইরানের জনগণকে জানানো হচ্ছে যে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে আমেরিকা ও জায়নিস্ট শাসনের যৌথ হামলায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শহীদ হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও খামেনির মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছিল।
-এমএমএস