আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনাকর পরিস্তিতির পর অবশেষে ইরানে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল। আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। খবর বিবিসির।
শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ইসরায়েল জুড়ে "বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা" ঘোষণা করেছেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তারা ইরানের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পেয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, তার দেশ ইরানের ওপর একটি ‘প্রতিরোধমূলক হামলা’ শুরু করেছে।
শনিবার সকালে এক জরুরি বিবৃতিতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই অভিযানের ঘোষণা দেন।
ইরানের দিক থেকে বড় ধরনের কোনো হামলার আশঙ্কা থেকে ইসরায়েল আগেভাগেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের ওপর এই হামলা শুরু হওয়ার পরপরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ পুরো ইসরায়েল জুড়ে ‘বিশেষ ও স্থায়ী জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
এই হামলার ব্যাপ্তি বা ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া না গেলেও, মধ্যপ্রাচ্যে এই ঘটনা এক ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
এর আগে ইসরায়েল থেকে জরুরি নয়, নিজেদের এমন সরকারি কর্মীদের দেশে ফেরার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে হামলার হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির মধ্যে শুক্রবার এমন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
যুদ্ধ এড়ানোর শেষ চেষ্টা হিসেবে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার একদিন পরই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিল।
শুরুতে এ আলোচনা ঘিরে কিছুটা আশাবাদ ছিল। তবে তেহরান স্পষ্ট জানায়, কোনো চুক্তি করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অতিরিক্ত দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে।
এমন এক সময়ে এই আলোচনা চলছিল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলার হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে মার্কিন বাহিনী।
বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মিত্র ইসরায়েলের উপকূলের কাছে।
এরই মধ্যে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ‘নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে’ জরুরি নয়, এমন সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ইসরায়েল ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি শুক্রবার সকালে দূতাবাসের কর্মীদের একটি ই–মেইল পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, যাঁরা দেশে ফিরতে চান, তাঁদের ‘আজই’ তা করা উচিত।
ই–মেইলে তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া যাবে, এমন যেকোনো আসনের টিকিট জোগাড়ের চেষ্টা করুন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই দেশ ত্যাগ করা।’
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেন। ইরান চেয়েছে শুধু তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ওপর জোর দিতে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে তাদের দেওয়া সমর্থনও সংকুচিত করতে চায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ট্রাম্পের সমঝোতাকারী দল ইরানের কাছে তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস এবং তাদের কাছে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানাবে।
কোনো দাবির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি শুক্রবার বলেন, এই পথে সফল হতে হলে অপর পক্ষকে অবশ্যই আন্তরিক ও বাস্তববাদী হতে হবে এবং যেকোনো ধরনের ভুল হিসাব–নিকাশ ও অতিরিক্ত দাবি এড়িয়ে চলতে হবে।
-এমএমএস