শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে’ কিউবা দখল করব: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

‘বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে’ কিউবা দখল করব: ট্রাম্প

জল্পনা দানা বাঁধছিল বেশ কিছু দিন ধরেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা খোলাখুলি ঘোষণা করলেন শুক্রবার। 

হোয়াইট হাউসে বসে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানালেন, ল্যাটিন আমেরিকার রাষ্ট্র কিউবাকে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে’ দখল করতে সক্রিয় হয়েছে আমেরিকা। 


বিজ্ঞাপন


এমনকি, এ বিষয়ে প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রোর দেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের ওই দাবি খারিজ করেছে হাভানা।

ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবা ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। তাই বামপন্থী দ্বীপ-রাষ্ট্রটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। 

তিনি বলেন, ‘কিউবার সরকার আমাদের সঙ্গে কথা বলছে এবং তারা একটি বড় সমস্যায় পড়েছে। তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। তাদের কাছে এখন কিছুই নেই। তবে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। সম্ভবত আমরা কিউবার বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেব।’

ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ বিষয়ে হাভানা সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। কিউবাকে ‘পতনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেও চিহ্নিত করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই কিউবার দিকে ট্রাম্পের ‘নজর’ পড়েছে বলে ল্যাটিন আমেরিকা জুড়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবার ট্রাম্পের দাবির পরে তা আরও জোরালো হয়েছে। 

যদিও শনিবার কিউবার তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও স্তরেই আমেরিকার সঙ্গে তাদের কোনও আলোচনা হচ্ছে না। গত শতাব্দীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-৪৫) শেষ হওয়ার পর ‘ঠান্ডা লড়াইয়ে’ (কোল্ড ওয়ার) জড়িয়ে পড়েছিল দুই মহাশক্তি— আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। 

পাঁচের দশকের শেষপর্বে সোভিয়েত-ঘনিষ্ঠ সমাজতান্ত্রিক নেতা কাস্ত্রোর নেতৃত্বাধীন কিউবা আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। যদিও কাস্ত্রোর মৃত্যুর পরে উত্তেজনা অনেকাংশে প্রশমিত হয়।

সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পরে ট্রাম্প সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না— শূন্য! খুব দেরি হওয়ার আগেই আমি তাই দৃঢ় ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার বিষয়ে ‘বিশেষ উৎসাহী’ বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, রুবিওর সঙ্গে কিউবার নাড়ির টান রয়েছে। পঞ্চাশের দশকে কাস্ত্রোর নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে বাতিস্তা সরকারের পতনের তিন বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চলে এসেছিল রুবিওর পরিবার। 

রাজনৈতিক জীবনের গোড়া থেকেই কাস্ত্রোকে ‘খুনি এবং স্বৈরাচারী’ বলে বার বার উল্লেখ করেছেন কিউবান বংশোদ্ভূত রুবিও।

-এমএমএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর