images

আন্তর্জাতিক

খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে চান ট্রাম্প!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

ইরানের সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে প্রয়োজনে সেদেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গেও দেখা করবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি বসে কথা বলতে ইচ্ছুক ট্রাম্প। সুযোগ পেলেই বৈঠক করবেন। খবর রয়টার্সের।

তবে ইরান প্রসঙ্গে আমেরিকার অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন রুবিও। এখনই ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে সুর নরম করছে না ওয়াশিংটন।

রুবিও জানিয়েছেন, কখনওই ইরানকে পরমাণু শক্তিধর হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে মার্কিন অবস্থান প্রথম থেকেই স্পষ্ট। ইরানের হাতে পরমাণু বোমা এলে তা আঞ্চলিক এবং সমগ্র বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। এই ঝুঁকি নেওয়া যাবে না। 

তবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। রুবিওর কথায়, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না কখনও। এটা স্পষ্ট।

তবে কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধানে আমরা আগ্রহী। তাহলে কেন পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েন করেছে আমেরিকা? রুবিও জানান, অতীতে আমেরিকার স্বার্থের ওপর একাধিকবার আঘাত করেছে ইরান। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সেনার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানের আশপাশে পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েন করে চলেছে আমেরিকা। পারস্য উপসাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন, দ্বিতীয় রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। 

সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আমেরিকার বাহিনী। ট্রাম্পের নির্দেশ পেলেই আক্রমণ করা হবে। এই পরিস্থিতিতে রুবিও জানালেন, পশ্চিম এশিয়ায় সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য আদৌ সংঘাত বৃদ্ধি নয়। বরং আমেরিকার সেনা এবং কাঠামোর ওপর ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধ করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। কূটনীতিই তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথায়, আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের জন্য কাজ করি, যিনি সকলের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। আমাদের প্রেসিডেন্ট সবসময় চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান।

সুযোগ এলে খামেনির সঙ্গেও ট্রাম্প দেখা করবেন, জানিয়েছেন রুবিও। তবে ট্রাম্প খামেনির মুখোমুখি বসলেও ইরানের পরমাণু পরিকল্পনা নিয়ে আমেরিকার অবস্থান বদলাবে না, স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। 

যদি ভবিষ্যতে তেমন কোনো বৈঠক হয়, তা হবে সংঘাত থামানোর স্বার্থে। ইরানের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তাদের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেবে না আমেরিকা।

ইরান এবং আমেরিকার কর্মকর্তাদের মধ্যে ওমানে এক দফা আলোচনা হয়েছে। সুইৎজারল্যান্ড জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে ওমানে ফের এই দুই দেশের কর্মকর্তারা বৈঠকে বসতে পারেন।

-এমএমএস