images

আন্তর্জাতিক

ইরানের আরও কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী, প্রস্তুত তেহরানও!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের আরও কাছে পৌঁছেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং বেশ কিছু যুদ্ধজাহাজ। অপরদিকে যেকোনো সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রতিরোধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।
 
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা বহনকারী একটি জাহাজ ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি ‘থাড’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। 

অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে বিশাল নৌবহর ভারত মহাসাগরে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সম্ভাব্য হামলার জন্য এটি এখনও প্রস্তুত নয়। 

আরও পড়ুন

ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা: মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বাতিল করল বহু বিমান সংস্থা

এদিকে মার্কিন রণতরী মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর খবরের পর এক বিবৃতি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের কাছে মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের আগমন তেহরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান বা কূটনীতির প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা কখনো যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি, আবার কূটনীতি ও আলোচনার পথ থেকেও কখনো সরে আসিনি। এসব আমরা বাস্তবে দেখিয়েছি।’
 
ইরানের কাছে জনগণের সমর্থনে দেশ রক্ষার পূর্ণ ইচ্ছা ও সক্ষমতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো আক্রমণের “ব্যাপক ও অনুশোচনাপ্রসূত জবাব” দেওয়া হবে। ইরান তার ক্ষমতার ওপর আস্থা রাখে এবং অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে, বিশেষ করে জুনের (ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধ) বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। এবারের জবাব আগের চেয়েও শক্তিশালী হবে।’

এছাড়াও ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দেশকে রক্ষা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে— বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রকাশিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দেশকে রক্ষা করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ সতর্ক রয়েছে... আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান এবং সামরিক শক্তির মধ্যে যোগসূত্রই হল- ইরানের বিজয় এবং ধৈর্যের চাবিকাঠি’।

প্রসঙ্গত, তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শঙ্কা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছন, অদূর ভবিষ্যতে যে কোনো সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইরান। সেসব হামলা ঠেকাতে আগাম সতর্কতা হিসেবে এই যুদ্ধজাহাজের বহরে কিছু এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম পাঠানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে এই বহরে রয়েছে বিপুল পরিমাণে গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক।

অন্যদিকে, প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তুতি বাদ দিতে বললেও এখন আবার নতুন পরিকল্পনা দিতে বলছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানে হামলার ব্যাপারে আলোচনার সময় এটিকে তিনি কয়েকবার চূড়ান্ত হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার নির্দেশনার পর হোয়াইট হাউজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ‘অপশন’ দিয়েছেন। যারমধ্যে ইরানের সরকার পতনের পরিকল্পনাও আছে।

 
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল


এমএইচআর