আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে বাংলাদেশি সন্দেহে পশ্চিবঙ্গের এক মুসলিম যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে ঝাড়খণ্ডে নিজের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মরদেহ। এই ঘটনায় নিহতের গ্রামের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় বিক্ষোভ করেছে তার পারিবার ও প্রতিবেশীরা।
কলকাতা-ভিত্তিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে, নিহত ওই যুবকের নাম আলাউদ্দিন শেখ, বয়স ৩৬ বছর। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা থানার কুমারপুর পঞ্চায়েতের সুজাপুর গ্রামে তার বাড়ি। প্রায় ৫ বছর আগে উপার্জনের আশায় ঝাড়খণ্ডে পাড়ি জমান তিনি; সেখানে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন।
আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতি ওসমান শেখ জানান, গত পরশু তার শ্যালক তাকে ফোন করে বলেছিলেন, ঝাড়খণ্ডের গ্রামে গ্রামে ফেরি করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সর্বত্র বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আধার কার্ড দেখালেও বিশেষ লাভ হচ্ছে না। গোটা ঘটনায় ভয় পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তারপর বৃহস্পতিবার বিকেলেও পরিবারের সদস্যরা আলাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তারপর থেকেই বন্ধ ছিল তার মোবাইল ফোন।
শুক্রবার সকালে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবর তার গ্রাম সুজাপুর গ্রামে পৌঁছাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার পরিবারের সদস্য, স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পরিবারের দাবি, যে ছবি তারা পেয়েছেন, সেখানে দেখা যাচ্ছে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় বসে আছেন আলাউদ্দিন। তার ভিত্তিতেই পরিবারের অভিযোগ, আত্মহত্যা নয় খুন করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। এরপর প্রমাণ লোপাটে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আলাউদ্দিনের মৃত্যুর প্রতিবাদে পরিবার-প্রতিবেশীরা রেললাইন ও ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। জ্বালানো হয় টায়ার। ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাহত রেল চলাচল। জাতীয় সড়কে একের পর এক দাঁড়িয়ে গাড়ি। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেখানে ইতোমধ্যে পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এলিট শাখা র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে অনেক শ্রমিকরা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, রাজধানী দিল্লি, হরিয়ানাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে যান। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন মুসলিম বাসিন্দাকে হত্যা করা হয়েছে।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
এমএইচআর