images

আন্তর্জাতিক

অর্থ দিতে আইনত বাধ্য ট্রাম্প: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব সংস্থার মধ্যে অর্ধেকের বেশি সংস্থা জাতিসংঘের। এই পরিস্থিতিতে এই সব সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত অনুদান আটকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ওই সব সংস্থায় বকেয়া অর্থ দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য। 

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে বলেছেন, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও শান্তিরক্ষা বাজেটে এই প্রতিশ্রুত অর্থ দেওয়ার বিষয়টি থাকে। সাধারণ সভা তা অনুমোদন করে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য সদস্য দেশ তা মানতে আইনত বাধ্য।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সবগুলো সংস্থাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। যারা জাতিসংঘের উপর নির্ভর করে তাদের সাহায্য করার দায়িত্ব জাতিসংঘের আছে’। 

এরআগে বুধবার সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও গণতন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রধান প্ল্যাটফর্মসহ ৬৬টি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তার প্রশাসন। 

তিনি বলেন, ‘কোন কোন সংস্থা, সম্মেলন এবং চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী তা যাচাই করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ওই সংস্থাগুলোতে অংশ নেওয়া বন্ধ করবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যাবতীয় তহবিলও বন্ধ করে দেবে।’

হোয়াইট হাউসের দেওয়া সেই তালিকায় জাতিসংঘের বাইরে থাকা ৩৫টি সংস্থার নাম রয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি), ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার।

যদিও হোয়াইট হাউস আইপিসিসিকে জাতিসংঘবহির্ভূত সংস্থা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, তবে এটি মূলত জাতিসংঘেরই একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। এটি বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের একত্র করে জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রমাণগুলো যাচাই করে এবং রাজনৈতিক নেতাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তার জন্য পর্যায়ক্রমিক বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেয়।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা জাতিসংঘের ৩১টি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এর মধ্যে আছে জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক চুক্তি সংস্থা (ইউএনএফসিসিসি), জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রধান সংস্থা—ইউএনএফপিএ।

তালিকাভুক্ত বেশ কিছু সংস্থা যুদ্ধের সময় ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহিংসতা থেকে রক্ষার কাজ করে; যার মধ্যে ‘যুদ্ধকবলিত শিশুদের বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়’ অন্যতম। 

গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেও এই তিনটি সংস্থা থেকে দেশকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন পরে সেই সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করে পুনরায় সংস্থাগুলোতে যোগ দিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থান ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা হোয়াইট হাউসের আদেশের ঠিক এক বছর পর পূর্ণ হবে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ২৬১ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে। যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯-এর মতো অতিমারিসহ বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো মোকাবিলায় এই সংস্থা যে তহবিল পায়, তার প্রায় ১৮ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএতে বাইডেনের সময় থেকে যে অর্থায়ন বন্ধ করা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রেখেছে।


সূত্র: রয়টার্স, এপি

এমএইচআর