images

আন্তর্জাতিক

‘চিকেনস নেক’ আতঙ্কে রাতারাতি ভারতের ৩ সেনাঘাঁটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ নভেম্বর ২০২৫, ০২:০২ পিএম

‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে যারপরনাই আতঙ্কে আছে ভারত। আর এই ভয়ের অন্যতম কারণ, বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে গড়ে ওঠা সখ্যতা।

আর ওই শিলিগুড়ি করিডোর রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশেই রাতারাতি অতি গোপনে তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত। এর মাধ্যমে পূর্ব সীমান্তের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার হয়েছে বলে দাবি করছে নয়াদিল্লি।

ভারতের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত ৭ রাজ্যে যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ রাস্তা হচ্ছে ওই চিকেন নেক। আর এ কারণেই আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তের ধুবড়ির কাছে বামুনি, বিহারের কিষাণগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায় এই তিন নতুন ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে। খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের। 

এই পদক্ষেপ ভারতের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা জোরদার করার বড় পরিকল্পনার অংশ, যার লক্ষ্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, ট্যাকটিক্যাল ঘাটতি পূরণ করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

এর মাধ্যমে সীমান্তে নীরবে শক্তি প্রদর্শন করল ভারত। সেনার ভাষায় এই ঘাঁটি গুলিকে বলা হয়, “গ্যারিসন” (Garrison)। এক একটি ঘাঁটিতে ৮০০ থেকে ৯০০ জন জওয়ান থাকবে। 

এগুলি ইনফেন্ট্রি ব্যাটালিয়ন হিসাবে কাজ করবে। ভারী যুদ্ধাস্ত্রসহ ওই ব্যাটেলিয়নকে বাংলাদেশ সীমান্তের ধারে কাছে রাখতেই এই গ্যারিসন তৈরি করা হয়েছে।

ভারতের সেনা সূত্র জানায়, “চিকেন নেক করিডর” থেকে ধুবড়ির দূরত্ব ২২২ – ২৪০ কিলোমিটার, চোপড়ার দূরত্ব ৫২ কিলোমিটার, কিষাণগঞ্জের দূরত্ব ১৫২-১৮০ কিলোমিটার। আবার বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেও এই ঘাঁটি গুলির গড় দূরত্ব খুব একটা বেশি নয়।

একদিকে চীনের কৌশলী সামরিক বিস্তার, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক উন্নয়ন- দুই বিষয়ই সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে ভারতের সামরিক গোয়েন্দাদের। 

“চিকেন নেক করিডোর” অংশটি যে ভারত সবচেয়ে দুর্বলতা, তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সামরিক বিশারদদের কাছে।

সামরিক গোয়েন্দাদের কাছেও শিলিগুড়ির ঠিক ওপারে থাকা অর্থাৎ বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে সেনাশক্তি বৃদ্ধি নিয়ে একাধিক তথ্য আসছে। 

সেই কারণে অত্যন্ত নীরবে এবং দৃঢ়ভাবে সীমান্তে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে ভারতীয় সেনারা।

ইতিমধ্যেই সেখানে থাকা ভারতীয় সেনাদের কাছে অস্ত্র, সাঁজোয়া গাড়ি পৌঁছেছে। পৌঁছে গিয়েছে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় রাইফেল থেকে শুরু করে অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র। এছাড়াও অত্যাধুনিক মোবাইল জ্যামিং সিস্টেমও মোতায়েন করা হচ্ছে এই ঘাঁটিগুলিতে।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তে এই তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এখানে ভারতীয় সেনাদের সবচেয়ে আধুনিক ট্যাঙ্ক ও যুদ্ধাস্ত্র দেওয়া হচ্ছে।

-এমএমএস