আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৬ পিএম
গাজা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক এবং অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান।
তিন দিনের উপসাগরীয় অঞ্চল সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র বিক্রি বন্ধের মাধ্যমে ইসরায়েলকে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাধ্য করতে হবে। আমরা এটি অর্জনের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং তা অব্যাহত রাখব।’
তিনি বলেন, ‘গাজা ইসলামী বিশ্বের জন্য একটি পরীক্ষা। গাজার পুনরুজ্জীবন অবশ্যই একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা হতে হবে এবং তুরস্ক, মিশর বা অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ একা এটি অর্জন করতে সক্ষম হবে না। এই লক্ষ্যে, আমরা আমাদের সকল মিত্রদের সঙ্গে ব্যাপক বৈঠক করেছি। আমি আমার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আমার গোয়েন্দা প্রধান এবং আমার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এমন সব জায়গায় পাঠিয়েছি যেখানে আমি যেতে পারিনি, বলেছি, আলোচনা এগিয়ে চলুক।’
এরদোগান জোর দিয়ে বলেছেন,
তিনি আরও বলেন, ‘গাজা আবারও তার পায়ে দাঁড়াবে; কারোরই এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকা উচিত নয়। এর জন্য, গাজায় নিরবচ্ছিন্ন সাহায্য প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মিশরে সাহায্য পাঠানো বন্ধ করিনি। আমরা আমাদের সরকার এবং এনজিওগুলোর ট্রাকের মাধ্যমে গাজায় সাহায্য পাঠাচ্ছি। আমাদের ১৭তম কাইন্ডনেস জাহাজ সম্প্রতি মিসরের এল-আরিশ বন্দরে পৌঁছেছে।’
গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসরায়েলের আক্রমণে গাজার পুরো অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন, এই ধ্বংসযজ্ঞ অপসারণের জন্য আমাদের ব্যাপক খনন কাজ চালাতে হবে। প্রথমে, আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কাজ করতে হবে, তারপর অবকাঠামো উন্নত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজার হাসপাতাল, স্কুল, মসজিদ এবং বেকারি সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এটি পুনর্নির্মাণ করা সহজ কাজ নয়।’
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হিসেব তুরস্কের কোনো মোতায়েন করা হবে না বলে জানিয়েছে দখলদার ইসরায়েল— এ বিষয়ে জানতে চাইলে এরদোগান বলেন, ‘এই বাহিনীর রূপরেখা এখনও নির্ধারিত হয়নি। এই ইস্যুতে আলোচনা চলছে, তবে আঙ্কারা গাজা উপত্যকাকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরালের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে বৃহৎ পরিসরে মানবিক ত্রাণ, কূটনৈতিক মধ্যস্থতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে জবাবদিহিতার আহ্বানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিকে সমর্থন দেওয়া সক্রিয় দেশগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তুরস্ক।
সূত্র: ডেইলি সাবাহ
এমএইচআর