আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৬ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দুই বিচারক ও দুই প্রসিকিউটরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-সহ দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাএবং এর আগে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
বুধবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে বলেন, ‘আইসিসি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইসিসির রাজনীতিকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অবজ্ঞা এবং অবৈধ বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট এবং অবিচল অবস্থান এটি।’
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র দফতরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিরা হলেন- আইসিসির ফরাসি বিচারক নিকোলাস ইয়ান গুইলু, কানাডীয় বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট এবং প্রসিকিউটর নাজহাত শামীম খান, যিনি ফিজির নাগরিক ও সেনেগালের নাগরিক প্রসিকিউটর মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং। তারা সবাই ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলায় জড়িত। এরমধ্যে বিচারক গুইলু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এরআগে গত জুন মাসে একইভাবে আইসিসির আরও চার বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ট্রাম্পের প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রেএশ করতে পারবেন না এবং দেশটিতে থাকা তাদের সব সম্পদ জব্দ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গাজা সংঘাতে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসির বিচারকরা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত এবং হামাস নেতা ইব্রাহিম আল-মাসরির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের অপরাধ বিচার করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট (আইসিসি) তৈরি করা হয়েছিল ২০০২ সালে। এটি সদস্য রাষ্ট্রের নাগরিকদের বা তাদের ভূখণ্ডে অন্য দেশের দ্বারা সংগঠিত অপরাধের বিচার করতে পারে। আইসিসিতে ১২৫টি রাষ্ট্র রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ইসরায়েলের মতো বহু দেশ এখনও আইসিসির সদস্য হয়নি।
এদিকে আইসিসির হাতে বিচারিক ক্ষমতা থাকলেও কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারে না। আইসিসি যা করতে পারে তা হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিভিন্ন দেশের সহায়তায় গ্রেফতার করা এবং গ্রেফতারের পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে তার কার্যালয়ে বিচারের জন্য হাজির করা।
-এমএইচআর