images

আন্তর্জাতিক

জনসমর্থন বাড়াতে কংগ্রেস ও রাহুলের নতুন কৌশল 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:১৯ পিএম

ভারতে জনসমর্থন বাড়াতে কংগ্রেস দল ও রাহুল গান্ধী নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে। এবার লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তর, পূর্ব ও উত্তরপূর্ব ভারতজুড়ে জনসংযোগ যাত্রায় নামছেন রাহুল। তারা এ যাত্রা হবে মণিপুর থেকে মুম্বাই পর্যন্ত।

রাহুল গান্ধীর এই যাত্রা শুরু হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি। চলবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। এপ্রিল-মে থেকে শুরু হয়ে যাবে লোকসভার নির্বাচন। ফলে লোকসভা নির্বাচনের আগে কিছুটা হেঁটে ও বেশিরভাগটা বাসে করে ভারতের প্রায় ছয় হাজার দুইশ কিলোমিটার পথে রাহুল ভারত পুনরায় যাত্রা করবেন।

আরও পড়ুন: খাসির পায়া না দেওয়ায় ভাঙল বিয়ে, বাঁধল সংঘাত

এর আগে তিনি কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মির পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার ভারত-জোড়ো যাত্রা করেছিলেন। তাতে ১২টি রাজ্যের ওপর দিয়ে গিয়েছিলেন রাহুল। সেই যাত্রায় জোর ছিল দক্ষিণ ভারত ও কাশ্মিরের ওপর। এবারের যাত্রা আরও ব্যাপক। ১৬টি রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে এই যাত্রা।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ ও কে সি বেনুগোপাল জানিয়েছেন, বিস্তারিত যাত্রাপথ কয়েক দিন পর জাননো হবে। তবে এই যাত্রা মণিপুর থেকে শুরু হয়ে মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, আসাম হয়ে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাত হয়ে মহারাষ্ট্র ঢুকবে। শেষ হবে মুম্বাইতে।

যাত্রার উদ্দেশ্য

কংগ্রেস নেতা ও এমপি জয়রাম রমেশ বলেছেন, ''রাহুলের এই যাত্রা হলো আর্থিক ন্যায়, সামাজিক ন্যায় ও রাজনৈতিক ন্যায়ের জন্য। এর উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্রকে বাঁচানো, সংবিধানকে বাঁচানো, মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব থেকে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা।''

জয়রাম জানিয়েছেন, ''প্রথম যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল ভারত-জোড়ো। এবারের যাত্রা সাধারণ মানুষ যাতে ন্যায় পান তা নিশ্চিত করা।''

আরও পড়ুন: দিল্লিতে ইসরায়েল দূতাবাসের পেছনে বিস্ফোরণ

বেনুগোপালের বক্তব্য, ''এর সঙ্গে রাজনীতি বা ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। রাহুল এই যাত্রা ভোটের জন্য করছেন না। ভোটের জন্য আলাদা কর্মসূচি থাকবে। আর এই যাত্রায় রাহুলের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় কংগ্রেস সভাপতি খাড়গে-সহ বিভিন্ন নেতা থাকবেন। এই যাত্রা হবে মূলত বাসে করে। তবে মাঝেমধ্যেই হাঁটবেন রাহুল'।'

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বিজেপি মুখপাত্র নলিন কোহলি এএনআইকে জানিয়েছেন, ''শুধু মুখে ন্যায়ের স্লোগান দিলে কিছু হয় না। ন্যায় তো তখন নিশ্চিত হয়, যখন দেশের ৮০ কোটি মানুষকে মোদি সরকার বিনা পয়সায় রেশন দেয়। ন্যায় তো তখনই পাওয়া যায় যখন, সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশাসের ফল মানুষ পান, যখন ভারত দশ নম্বর অর্থনীতি থেকে পাঁচ নম্বরে আসে, দেশের মর্যাদা বাড়ে। এটা গরিবি হঠাওয়ের মতো শূন্য স্লোগান নয়, ভারত জোড়ো যাত্রার মতো ব্যর্থ প্রয়াস নয়। ন্যায় মানুষকে দিতে হয়।''

ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মুখপাত্র মনোজ পাণ্ডে পিটিআইকে বলেছেন, ''রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রার বিপুল প্রভাব পড়েছিল। এই ন্যায় যাত্রারও পড়বে। উত্তরপূর্ব, পূর্ব, উত্তর ও পশ্চিম ভারতে এই যাত্রা হবে। এর ফলে কংগ্রেস তো বটেই সামগ্রিকভাবে ইন্ডিয়া জোটের দলগুলো উপকৃত হবে।''

যাত্রার সুফল

এক সময় লালকৃষ্ণ আডবাণীর রথযাত্রার প্রধান আয়োজক হিসাবে থাকতেন গোবিন্দাচার্য। তিনি বলতেন, এই যাত্রার সবচেয়ে বড় লাভ হয়, সাধারণ মানুষ দলের নেতাদের সামনে থেকে দেখতে পান। তাদের কথা শুনতে পান। এর ফলে জনমত গড়ে ওঠে।

প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত রায়চৌধুরী বলেন, ''এই ধরনের যাত্রার দু’টি খুব ভালো দিক আছে। প্রথমটি অবশ্যই যে জায়গা দিয়ে যাত্রা যাবে, সেখানকার ও আশপাশের মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। এই জনসংযোগের পাশাপাশি দ্বিতীয় লাভ হলো, দলের কর্মীরা এর ফলে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। এমনিতে হাইকম্যান্ড বা রাজ্যের নেতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগে ঘাটতি থাকে। এই ধরনের যাত্রা কর্মী ও নেতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। তার প্রভাব আমরা কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে দেখেছি। ভারত জোড়ো যাত্রার প্রভাব সেখানে পড়েছে।''

জয়ন্তর মতে, ''গান্ধীজি এভাবে জনসংযোগ করতেন। সুভাষচন্দ্র মূলত ট্রেনে যাতায়াত করতেন। যাত্রাপথে বা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে মিশতেন। স্বাধীনতার পর নেহরু মূলত জনসভার মাধ্যমে এই জনসংযোগ করেন। তবে গান্ধীজি ও সুভাষ বোসের জনসংযোগ ছিল অতুলনীয়।''

সাংবাদিক মিলন দত্ত জানিয়েছেন, ''এই ধরনের যাত্রা একজন রাজনীতিককে পরিণত করে। এতে ভোটে খুব বেশি সুবিধা হয়ত হয় না। কিন্তু একজন রাজনীতিকের জন্য এই যাত্রা খুবই জরুরি বলে আমার মনে হয়।''

সূত্র : ডয়চে ভেলে

এমইউ