আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৪৮ পিএম
দিনেদুপুরে শহরের রাস্তায় গুলির শব্দ। জানলা দিয়ে উঁকি দিচ্ছিলেন বাসিন্দারা। তাদেরই কেউ এক জন মোবাইলে এই ঘটনার ভিডিও করেন। তাতে দেখা গেছে, রিভলভার হাতে সশস্ত্র কয়েক জনের পিছু নিয়েছেন এক জন। গায়ে পুলিশের পোশাক ছিল না। তাই স্থূলকায় মানুষটি কে, তা কেউই বোঝেননি।
তবে ডাকাতদলের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর ওই ‘স্থুলকায় লোকটাকে’ নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে। তিনি রতন রায়। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার রানাঘাট থানার এএসআই। দুষ্কৃতীদের অত্যাধুনিক অস্ত্র থেকে ছোড়া গুলির সামনে অকুতোভয় ছিলেন রতন। জং ধরা রিভলভার দিয়েই দিয়েছেন গুলির প্রত্যুত্তর।
আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, এএসআই রতনের ওজন ১০২ কেজির আশেপাশে। সাধারণ শারীরিক উচ্চতায় এমন স্থুলকায় অবস্থা নিয়ে প্রায়শই সহকর্মীদের ঠাট্টা-তামাশা শুনতে হয় তাকে। তবে মঙ্গলবার দুপুরে যে কাণ্ড তিনি ঘটিয়েছেন, তাতে স্থানীয় পুলিশ সুপারও রতনকে নিয়ে গর্বিত।
আরও পড়ুন: ভারতে টয়লেট ব্যবহার করে না ১৯ শতাংশ পরিবার
খবরে বলা হয়েছে, ব্যারাকপুর সেন্টারের ১৯৯৬ ব্যাচের কনস্টেবল থেকে সদ্য পদোন্নতি পাওয়া এএসআই রানাঘাটে ডাকাতদলের ছোড়া মুহুর্মুহু গুলির সামনেও পিছু হঠেননি। বরং চার দুষ্কৃতীকে প্রায় ৫০০ মিটার ধাওয়া করেছেন। দু’জনকে ঘায়েল করেছেন তার হাতের জং ধরা রিভলভার দিয়ে।
রতন বলেন, ‘তখন কার হাতে কোন অস্ত্র কিছুই মাথায় ছিল না। একটাই কথা মাথায় ঘুরছিল— পুলিশের সম্মান।’ তার গুলি পায়ে লেগে দুই ডাকাত ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় জুয়েলারি শোরুম থেকে লুট হওয়া বহুমূল্যের গয়না।
মঙ্গলবার বিকেলে তার রিভলভার হাতে ডাকাতদলের পিছু নেওয়া ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যার ভাসছেন রতন। পুলিশকর্তাদের প্রশংসা রতনকে উৎসাহিত করছে।
মঙ্গলবারের ‘অপারেশন’ নিয়ে রতন বলেন, ‘খবর পাওয়া মাত্র মাথায় ঘুরছিল, কোনোভাবে যেন পালাতে না পারে ডাকাতরা। ভেবে নিই, যেভাবেই হোক আমাকে পুলিশের সম্মান বাঁচাতেই হবে। ভয় হয়নি। তবে আশঙ্কা ছিল ডাকাতদের বাগে আনার আগেই না গুলি শেষ হয়ে যায়!’
আরও পড়ুন: সামুদ্রিক খাবার রফতানিতে ভারতের রেকর্ড
রতনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী। স্ত্রী এবং দুই সন্তান থাকেন মুর্শিদাবাদের লালবাগের বাড়িতে। রতনের কীর্তিতে গর্বিত গোটা পরিবার। রতনের ছোটবেলাকার বন্ধু, লালবাগ স্কুলের সহপাঠী মঞ্জুল সরকারের কথায়, ‘ও মোটাসোটা বলে আমরা মাঝে মাঝেই ঠাট্টা করি। ভোটের মধ্যেই তো বলেছিলাম, বোমা মারলে পালাতে পারবি তো? কিন্তু ও আজ প্রমাণ করে দিল রতন আসলে আমাদের রত্ন।’
এএসআই রতন রায়কে নিয়ে রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার কে কান্নান বলেন, ‘রতনসহ গোটা দল যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তার জন্য প্রত্যেককে জেলা পুলিশ সুপার হিসাবে ধন্যবাদ জানালাম। আর রতনের লড়াইটা ছিল চোখে পড়ার মতো। ওদের জন্য গর্বিত।’
এ সব শুনে রতনের স্ত্রী বলছেন, ‘গর্ব তো হচ্ছেই। তবে চিন্তাও হয়। ছবিগুলো দেখছি আর আঁতকে উঠছি। যদি একটা গুলি ওর লেগে যেত!’
ভিডিওটি দেখতে এই এখানে ক্লিক করুন
একে