নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং এটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যবিরোধী আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা জুলাইয়ের ইতিহাস কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগস্থ শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) ‘এনডিএফ থার্টি-সিক্সথ জুলাই সেলিব্রেশন ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘দ্যা জুলাই আপরাইজিং: আ নিউ বিগিনিং’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকা, স্বেচ্ছাসেবকদের অবদান এবং জুলাইয়ের চেতনাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সভায় ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মালেক বলেন, ‘জুলাই রয়ে যাবে আমাদের হৃদয়ে, আমাদের কাজে, আমাদের পেশায় এবং আমাদের স্মৃতিতে। হাজারো পেশাজীবী, দিনমজুর ও রিকশাচালক জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছেন। এই জুলাইকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে আত্মত্যাগ ও রক্তের ইতিহাস জড়িয়ে আছে, তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল রাফি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে।’
তিনি বলেন, ‘যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসক সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।’
এসময় জুলাই অভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত ভূমিকার কথা তুলে ধরেন ডা. মোহাম্মদ আলী আফতাব।
তিনি বলেন, ‘তার আগে যারা বক্তব্য দিয়েছেন তাদের অনেকেই সরাসরি অস্ত্রোপচার ও রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নিজের ভূমিকা ছিল ভিন্ন। তিনি মূলত সরাসরি রোগীর চিকিৎসায় যুক্ত না থেকে চিকিৎসকদের কাজের সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালসহ কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালেও আহতদের চিকিৎসাসেবায় সহযোগিতা করা হয়।’
ডা. আলী আফতাব বলেন, ‘জুলাইয়ের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একের পর এক গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত রোগী আসতে থাকেন। অনেককে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে দ্রুত শ্বাসনালি সচল করা, রক্ত দেওয়া, একাধিক আইভি লাইন খোলা, ড্রেসিং, ইনটিউবেশনসহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসা দিতে হয়েছে।’
একজন গুলিবিদ্ধ রোগীর চিকিৎসায় একসঙ্গে চার থেকে পাঁচজন পর্যন্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে কাজ করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে একজন রোগীর পাশে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু জুলাইয়ের সময় অধিকাংশ আহতের সঙ্গে কোনো স্বজন বা পরিচর্যাকারী ছিলেন না। ফলে চিকিৎসকদের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদেরও রোগী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হয়েছে।’
এসএইচ/এএম