images

হেলথ

‘আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল সর্বোত্তম সমাধান নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা সর্বোত্তম সমাধান নয় বলে মনে করে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ)।

আজ সোমবার (১৫ জুন) সংগঠনটির অফিস সম্পাদক আরিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিপিএইচসিডিএর সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস (ডাম্বেল) ও মহাসচিব ডা. এ এম শামীমের যৌথ বিবৃতিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের সাম্প্রতিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনাদায়ক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। তদন্তে কোনো ধরনের অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে ঘাটতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংগঠনটি বলেছে, একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করে দেওয়া সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান নয়। এতে মধ্যবিত্ত, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যাদের অনেকেরই ব্যয়বহুল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও চিকিৎসাজনিত জটিলতার ঘটনা ঘটে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ত্রুটি শনাক্ত করা, সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া, দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।

বিপিএইচসিডিএর মতে, প্রয়োজনীয় তদারকি, নির্দেশনা ও সংশোধনমূলক শর্ত সাপেক্ষে আদ্-দ্বীন হাসপাতালকে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর সিদ্ধান্ত যেন যথাযথ প্রক্রিয়া ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে হয়, সেটিই কাম্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশনে বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যা উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের তদন্ত ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংগঠনের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হলে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সুপারিশ প্রণয়ন সহজ হবে বলে তারা মনে করে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিপিএইচসিডিএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 

এসএইচ/এআর