ঢাকা মেইল ডেস্ক
১৪ জুন ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
বছরে অন্তত একবার স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। কারণ রক্ত এমন একটি উপাদান, যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন জটিল রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দান করা রক্তই হতে পারে অন্য একজন মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশা।
আজ রোববার বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব বলেন। প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্বব্যাপী বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করা হয়। এই দিনটি স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদানকারী ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এবং নিরাপদ রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদযাপিত হয়। মানবতার সেবায় রক্তদান একটি মহৎ ও জীবনরক্ষাকারী কাজ, যা অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি এই দিবসটি যথাযথ নিয়মে পালন করছে। দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি রক্ত দাতাদের সম্মাননা জানায়। পাশাপাশি থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য বাংলাদেশ থ্যালসেমিয়া সমিতি প্রাঙ্গণে ও গুলশান অবস্থিত কোন্ট্রোল ইউনিয়ন বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্ত দান কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
রক্ত দান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড ট্রান্সফিউশন এসোসিয়েসন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ডা. খাইরুল ইসলাম, খোদেজা-হারমাত ট্রাস্টের চেয়ারম্যান রুহি মুরশিদ আহমেদ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য কাজী আসহাবুল রহমান, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির উপদেষ্ঠা সৈয়দ দীদার বখত, প্রচার সম্পাদক ইঞ্জি. মো. আলী আশারাফ ও বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও চিফ অব ব্লাড ব্যাংক অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আরা ও চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. কবিরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ড. এম এ মতিন। সঞ্চালক ছিলেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এ কে এম একরামুল হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রক্ত এমন একটি উপাদান যা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব নয়। দুর্ঘটনায় আহত রোগী, প্রসূতি মা, থ্যালাসেমিয়া রোগী, ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের রোগীদের জীবন রক্ষার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দান করা রক্তই হতে পারে অন্য একজন মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশা। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো নিরাপদ ও পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মানুষকে নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করা।
রক্ত দানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্তদান করতে পারেন এবং এতে তার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বাংলাদেশের সেফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় আট থেকে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। এই রক্ত মূলত প্রসূতি মা, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, থ্যালাসেমিয়া রোগী এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে গত দুই দশকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও এখনও অধিকাংশ রক্ত রোগীর আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-২০১৭ সময়ে মোট রক্তের মাত্র ৩০-৩১ শতাংশ স্বেচ্ছাসেবী ও বিনামূল্যের রক্তদাতাদের কাছ থেকে এসেছে। বাকি অংশ এসেছে রোগীর আত্মীয়স্বজন বা প্রতিস্থাপনমূলক দাতাদের কাছ থেকে। বাংলাদেশে দিন দিন থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুর্যোর তথ্য মতে দেশে প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার মানুষের জন্ম হয় থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালে প্রতি মাসে এক হাজার থেকে ১২শ’ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ বিভিন্ন মাধ্যম হতে স্বেচ্ছায় রক্ত দান কর্মসূচির মাধ্যমে সংগ্রহ হয়। বিশ্ব রক্ত দাতা দিবসে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, যেন তারা প্রতি বছর এক বার হলেও রোগীকে রক্ত দান করেন। -বিজ্ঞপ্তি
ক.ম/