নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মে ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হয়ে যাওয়া) পর প্রতি মিনিটে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০ শতাংশ করে কমে যায়। তবে সঠিক সময়ে সিপিআর প্রয়োগ করতে পারলে মৃত্যুর ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এমন তথ্য জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
সাধারণ মানুষের মধ্যে জীবন রক্ষাকারী জরুরি চিকিৎসাসংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বেসিক লাইফ সাপোর্ট সিপিআর প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশনের একাডেমিক ভবনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআর প্রয়োগের বিভিন্ন কৌশল হাতে-কলমে শেখানো হয়। আয়োজকরা জানান, মে মাসে ব্যাচে মোট ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে এ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
কর্মশালাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোর্শেদ এবং সিমেক হেলথের রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার ডা. নীলাঞ্জনা রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিমেক হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান।
এ সময় সিমেক হেলথের ডিরেক্টর ও সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবার, অফিস সহকর্মী কিংবা প্রিয়জনকে নিরাপদ রাখতে সিপিআরের মতো জীবন রক্ষাকারী প্রশিক্ষণ সবার জানা প্রয়োজন।’
তিনি আগ্রহীদের সিপিআর প্রশিক্ষণে অংশ নিতে সিমেক হেলথের হটলাইন নম্বর ০১৩২৫৭৭৫৭৫৭ এবং ০১৭১৭৭৫৭৫৯৩-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সিমেক হেলথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শহীদ সালাম প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চিকিৎসকদের মতে, হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বাংলাদেশে দিনদিন বাড়ছে। বাড়ির বয়স্ক সদস্য থেকে শুরু করে অফিসের সহকর্মী—যেকোনো সময় কারও না কারও হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সে সময় আশপাশের কেউ যদি সঠিক পদ্ধতিতে সিপিআর দিতে পারেন, তাহলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। বিশেষ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এই প্রাথমিক চিকিৎসা রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিইউ/এমআই