নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০৮:০৭ এএম
প্রতিরোধ হলো থ্যালাসেমিয়া সমস্যার সমাধানে প্রধান বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার (৮ মে) ঢাকায় মালিবাগ হোসাব টাওয়ারে অবস্থিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল আয়োজিত বিশ্ব থ্যালাসিমিয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের ৬০-৮০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রধান বিষয় হলো প্রতিরোধ। আর এটা সম্ভব শুধু থ্যালাসেমিয়া বহন করা স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ রোধের মাধ্যমে। কারণ তাদের সন্তানদের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে প্রচার-প্রচারণা বাড়াতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি জন্মগত রক্ত-স্বল্পতাজনিত জটিল রোগ। স্বামী-স্ত্রী দুজন যদি থ্যালাসেমিয়া বাহক হন, শুধু তখনই সন্তানদের এই রোগ হতে পারে। আমরা অনেকেই জানি না কে এই থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এ জন্য বিয়ের আগে ছেলে-মেয়ে থ্যালাসেমিয়া বাহক কিনা সবার জানা উচিত।
অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সোশ্যাল সেপটিনিটি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করছে। মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মদক্ষ করে দেশের মানুষকে মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে প্রতি ৯ জনে একজন থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতি বছর বাংলাদেশ প্রায় ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নিচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মিডিয়াই পারে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে। এ জন্য তিনি সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জনসচেতনতা তৈরির জন্য থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সকল মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে। অর্থাৎ অর্থের অভাবে চিকিৎসা হবে না, এই দৃশ্যটা সরকার বাংলাদেশে রাখতে চায় না। আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও শিক্ষায় বরাদ্দে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হবে।
এর আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ডে-কেয়ারের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি করা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মনজুর মোরশেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজিয়া ইসলাম ও ডা. হুমায়ুন কবির।
এসএইচ/এফএ