নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
শিশুর জ্বর হলেই সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে হাম ধরে নেওয়া উচিত নয় বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তবে চার দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে রোগীকে আইসোলেশনে রাখা জরুরি বলেও জানিয়েছেন তারা।
রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) শহীদ ডা. মিল্টন হলে শিশু বিভাগের উদ্যোগে এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এই অভিমত জানান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন:- হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু
গোলটেবিল আলোচনায় সংক্রমণ প্রতিরোধে আইসোলেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে হামের পুনরুত্থান প্রতিরোধ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়।
সভায় বক্তারা সতর্ক করে বলেন, হামের পুনরুত্থান ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই এখনই টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
শিশু অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও আইসিডিডিআরবি’র জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়-টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করা, রোগীর দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সময়মতো টিকা দিলে হাম প্রতিরোধ সম্ভব হলেও সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানের ঘাটতি ও সচেতনতার অভাবে সংক্রমণ বাড়ছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ‘এই আলোচনায় উঠে আসা সুপারিশগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। টিকার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন:- কেন বাড়ছে হাম, প্রতিরোধে করণীয় কী
তিনি কিশোরীদের জন্য বুস্টার ডোজ চালুর বিষয়টি বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং গর্ভবতী নারীদের প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে বৃহৎ পরিসরে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সভায় বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে ছয় মাসের কম বয়সি শিশুর মধ্যেও হাম সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা পূর্বের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, মাতৃ-প্রদত্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা সব ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। এ কারণে ভবিষ্যতে কিশোরীদের অতিরিক্ত টিকা দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনা করার সুপারিশ করা হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেসমিন মোরশেদ। তিনি জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসোলেটেড ওয়ার্ড চালু রয়েছে এবং সময়মতো টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
আলোচনায় আরও বলা হয়, হামের জটিলতা মোকাবিলায় সমন্বিত কেস ম্যানেজমেন্ট, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা, কেসভিত্তিক নজরদারি বৃদ্ধি, জনসচেতনতা এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।
এর পাশাপাশি হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় প্রস্তুতি, গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হয় আলোচনা সভায়।
এএইচ