images

বিনোদন

হিন্দি ছবি আমদানির চেয়ে কি যৌথ প্রযোজনা ভালো ছিল?

বিনোদন প্রতিবেদক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৩:১২ পিএম

নাকের ডগায় নিশ্বাস নিয়ে চলছে দেশের চলচ্চিত্র শিল্প। সিনেমা হলের রমরমা অবস্থাও এখন আর নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ পেতে চান হল মালিকরা। সম্প্রতি বলিউডের সিনেমা আমদানির প্রক্রিয়া তাদের আশার আলো জুগিয়েছে। ভাবছেন দিনের পর দিন লোকসান দিতে থাকা হলগুলো একটু স্বস্তি পাবে।

এদিকে চলচ্চিত্রাঙ্গনের একটি অংশ মনে করছে হিন্দি সিনেমায় হল বাঁচলেও হুমকির মুখে পড়বে ঢালিউড। তাদের মতে, এর চেয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবিই ভালো ছিল। এতে ব্যবসার পাশাপাশি দেশি চলচ্চিত্রের গায়েও গরম নিশ্বাস পড়ত না।

shakib khan

যৌথ প্রযোজনা নাকি হিন্দি ছবি আমদানি—কোনটা দেশের সিনেমার জন্য লাভজনক জানতে চাইলে ঢাকা মেইলকে চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ‘স্বচ্ছতা বজায় রেখে যৌথ প্রযোজনা করা গেলে সেটাই সবচেয়ে ভালো ছিল। কিন্তু আমাদের এখানে যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে দুই নাম্বারি (নিয়ম লঙ্ঘন) করা হয়েছে। নৈতিকতা বজায় রাখা হয়নি। এখন সাফটা চুক্তি মেনে বলিউডের ছবি দেশের সিনেমা হলে চালালে খারাপ হবে না। তবে ঢালাওভাবে চালানো যাবে না।’

একই প্রশ্নের উত্তরে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ বলেন, “যৌথ প্রযোজনার ছবি তো ভালোই চলছিল। কিন্তু কেন বন্ধ হলো? কী এমন কারণ ছিল সেটাই তো বুঝতে পারছি না। আর একটা ব্যাপার হচ্ছে, যে হুমকির কথা বলা হচ্ছে এটা নির্ভর সিনেমার মানের ওপর। একটা সময় আমাদের ছবি বলিউডের ছবির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে। কলকাতার ছবির চেয়ে আমাদের ছবির মান ভালো ছিল। তখন তো আমাদের ছবি ঠিকই দেখেছে। আমি বিশ্বাস করি, মান ভালো হলে হলিউড বা বলিউড কোনো প্রভাব ফেলবে না। এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’। দর্শক কিন্তু হলিউডের সিনেমা বাদ দিয়ে এই ছবি দুটি দেখেছেন।”

cinema

বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনার ছবি সব চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না। তবে সারা বছরে কিছু ছবি ব্যবসা করেছিল। এতে হল মালিকরা উপকৃত হয়েছেন, টেকনিশিয়ানরাও উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু সেখানেও তো তাদের সমস্যা ছিল। তারা যৌথ প্রযোজনার ছবির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। আমাদের প্রদর্শক সমিতির তৎকালীন সভাপতিকে রাস্তায় নেমে পিটিয়েছেন। এখন আবার তারা বলছেন, যৌথ প্রযোজনার ছবি ভালো ছিল!’

তিন আরও বলেন, ‘বলিউড সিনেমা আমদানিতে দেশের চলচ্চিত্রের ক্ষতি হবে বলা হচ্ছে। আমার কথা হলো ক্ষতির কী বাকি আছে? তাদের তো ৫০ বছর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে তারা কী করতে পেরেছেন। উল্টা হল সংখ্যা ১২০০ থেকে ৪৫-এ নেমেছে। আর কী ক্ষতি হবে?’

cinema

এ উপদেষ্টা মনে করেন, বিশ্বায়নের এই যুগে বলউডের ছবি আমদানির পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনাও ফের শুরু হওয়া উচিত। কোনো দুয়ারই বন্ধ রাখা ঠিক না বলে মনে করেন তিনি।

আরআর/আরএসও