বিনোদন ডেস্ক
১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১১ পিএম
আততায়ীর আতংকে বলিউড। গেল কয়েক বছর ধরে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নিশানায় একের পর এক তারকা। তার হুমকি ধামকিতে তটস্ত বি-টাউন। এখানেই শেষ না। কাউকে লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে গুলি, কেউ হারিয়েছেন প্রাণ। তালিকায় আছেন সালমান খানের ঘনিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বাবা সিদ্দিকী এবং পাঞ্জাবের জনপ্রিয় র্যাপার সিধু মুসে ওয়ালা। এ সবেরই দায় নিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই। গতকাল রোববার টাইগার শ্রফের ওপর হামলার ঘটনায় ফের আলোচনায় বিষ্ণোই গ্যাং।
সালমানকে প্রাণনাশের হুমকির মাধ্যমে বলিউডে বিষ্ণোইয়ে দৌরত্ন বাড়তে থাকে। গ্যাংয়ের সঙ্গে অভিনেতার শত্রুতার সূত্রপাত ১৯৯৮ সালে। ওই বছর রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় সালমানের বিরুদ্ধে দুইটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে। ভারতের রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পূজা করে থাকেন। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী হরিণের প্রাণ রক্ষা করা অত্যন্ত পবিত্র দায়িত্ব। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জেরে ২০১৮ সালে লরেন্স বিষ্ণোই প্রথম প্রকাশ্যে সালমানকে হত্যার হুমকি দেন।
সালমান ছাড়াও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হিটলিস্টে রয়েছেন বলিউডের একাধিক তারকা ও রাজনীতিক। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত তিনবারের বিধায়ক বাবা সিদ্দিকীর মৃত্যুর জন্য দায়ীয় করা হয় এই গ্যাংকে। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় বাবা সিদ্দিকীর ছেলে ও বিধায়ক জিশান সিদ্দিকীর কার্যালয়ের সামনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিন জন বন্দুকধারী তাঁকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে মুম্বাইয়ের লীলয়াভাতি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবা সিদ্দিকীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাঁর ছেলে জিশান সিদ্দিকীকেও হত্যার হুমকি দেয় এই গ্যাং। মূলত সালমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে হামলা চালায় গ্যাংটির সদস্যরা। ওই ঘটনায় অভিনেতার গাড়িচালক ফিরদাউস এবং এক পথচারী আহত হন। এর আগে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সালমানের সঙ্গে সুসম্পর্কের জেরে হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন টাইগার। ঠিক তার কয়েকমাস পরই তাঁর সাবেক প্রেমিকা দিশা পাটেনির বাড়িতে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। হামলার পর এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, হিন্দু ধর্মকে অবমাননা করার কারণেই অভিনেত্রীর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বলিউডের জনপ্রিয় পরিচালক রোহিত শেঠির মুম্বাইয়ের বাসভবনেও গুলি চালায় মাফিয়ারা। এছাড়া জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও অভিনেতা কপিল শর্মার কানাডার ‘ক্যাপস ক্যাফে’-তে তিন দফা হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও শেয়ার করে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। ভিডিওটিতে দেখা যায়, চলন্ত গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডগান দিয়ে ক্যাফে লক্ষ্য করে অন্তত তিন রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। সৌভাগ্যবশত সে ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
শুধু সরাসরি হামলা মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আতঙ্ক। জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর সিং, র্যাপার বাদশা, অভিনব শুক্লা, গায়ক প্রতীক বচ্চন, রাখি সাওয়ান্ত এবং ইউটিউবার মনোয়ার ফারুকীকেও বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রেখেছে অপরাধ চক্রটি। একের পর এক হামলার ঘটনায় পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
ইএইচ/আরআর