Dhaka Mail Logo

বিনোদন

গোয়ায় নানা পাটেকরের ফ্ল্যাটে শেষ মুহূর্তে কী ঘটেছিল?

বিনোদন ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে আবারও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মারা গেছেন বলিউডের বরেণ্য অভিনেতা নানা পাটেকর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। 

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে গোয়ার মনিপাল হাসপাতালে নানা পাটেকরকে মৃত বলে ঘোষণা করে। এর আগে আজ সকালে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর তার ছেলে মালহার পাটেকর দ্রুত একটি মেডিকেল টিমকে ফ্ল্যাটে পাঠান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায় মেডিকেল টিম। অভিনেতাকে নিজ বাসভবন থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মনিপাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।  

হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শেখর সালকর সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, অভিনেতাকে বাঁচানোর জন্য টানা ৪৫ মিনিট ধরে সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সিপিআর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনার পর একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস দায়ের করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে মুম্বাইয়ে নেওয়া হবে। 

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন নানা পাটেকর (আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর)। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৭৮ সালে প্রাক্তন ব্যাংক কর্মকর্তা ও নাট্যকর্মী নীলকান্তি পাটেকরকে বিয়ে করেছিলেন। পরবর্তীকালে আলাদা থাকলেও তাঁরা আইনিভাবে বিবাহবিচ্ছেদ করেননি। তাঁদের বড় ছেলে দুৰ্বাসা মাত্র ২ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর ছোট ছেলে মল্লার পাটেকরকে রেখে গেছেন। 

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে বলিউড চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন নানা পাটেকর। তবে দর্শকমহলে পরিচিতি আসে ১৯৮৮ সালের ‘সালাম বোম্বে’ এবং ‘পারিন্দা’ ছবির মাধ্যমে। এরপর তিনি একে একে ‘আঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’,‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি দ্য মিউজিক্যাল’, ‘যশবন্ত’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপহরণ’ এবং ‘রাজনীতি’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন। 

১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালনাক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। হিন্দি ছবির পাশাপাশি মারাঠি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।  শিল্প সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী খেতাবে ভূষিত করা হয়। 

ইএইচ/