বিনোদন ডেস্ক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ভারতের ধনীদের মধ্যে অন্যতম বলিউড তারকা সালমান খান। ৩০০০ কোটি রুপির মালিক তিনি। তবে জনপ্রিয়তা ও প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ সালমানের শৈশব কেটেছে অভাব অনটনে। বেতন দিতে না পারায় স্কুল থেকে বের করেও দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
কাজল ও টুইঙ্কল খন্নার ‘টু মাচ’ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সালমান। সেখানে অকপটে বলেছেন শৈশবের কথা। ভাইজান জানান, একরত্তি বয়সে ডানপিটে ছিলেন তিনি। দুষ্টুমির জন্য প্রায়ই ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো তাকে। একবার দুষ্টুমি না করেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। সময়মতো স্কুলের বেতন দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই শাস্তি পেতে হয়েছিল তাকে।

দুই নায়িকার শোয়ে সালমান বলেন, “আমাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। আমার বাবা (সেলিম খান) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এবার কী করেছে?’ আমি তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। বাবা শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘না, মিস্টার খান, এটা ওর দোষ নয়, আপনার দোষ।’ বাবা জানতে চান, ‘আমি কী করেছি?’ তখন শিক্ষিকা বলেন, ‘আপনাকে যে ফি দিতে হতো, সেটা সময়মতো দেওয়া হয়নি। তাই আমরা ওকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছি।’ তখন বাবা বলেন, ‘তা হলে তো আমাকে ওখানে দাঁড় করানো উচিত।”
এ ঘটনার পর সেলিম খান প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কদিনের মধ্যে স্কুলের বেতনও পরিশোধ করেন। কিন্তু পরেরবারও সময়মতো ফি মেটাতে ব্যর্থ হন। সেবার স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয় সালমানকে।

নিজের অনটনের দিনগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন সালমানের বাবা সেলিমও। ১১০ রুপি ভাড়ার একটি ঘর নেওয়ারও সামর্থ্য ছিল না তার। ১৯৬০-এর দিকে এসে লেখালেখিতে মন দেন। আস্তে আস্তে দিন ফেরে। বলিউডের চিত্রনাট্যকার হিসেবে নাম ছড়ায়।
তবে ডাকসাইটে চিত্রনাট্যকারের ছেলেও হয়েও সিনেমায় পথচলা সহজ ছিল না সালমানের। শুরু করেছিলেন সহকারী পরিচালক হিসেবে। এরপর পার্শ্বচরিত্রে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। পরে ১৯৮১ সালে ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ছবিটি ব্লকবাস্টার হওয়ার পরও লম্বা সময় কাজহীন থাকতে হয়েছে ভাইজানকে। পরে আস্তে আস্তে দিন ফেরে তার। বলিউডের সুপারস্টারে পরিণত হন।
আরআর