বিনোদন ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
এক জীবনের পুরোটাই জনপ্রিয়তায় মোড়া। লম্বা ক্যারিয়ারে রয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গান। পুরস্কার সম্মাননা ছিল ঘরভর্তি। বাঘা বাঘা সংগীতজ্ঞের আইডল তিনি। সমসাময়িকরাও ঈর্ষা করতেন। তবুও পরের জন্মে চাননি লতা মঙ্গেশকর হয়ে জন্ম নিতে চাননি কিংবদন্তি। খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা বয়ে বেড়ানোর বদলে ছেলে হয়ে জন্মাতে চেয়েছিলেন একটি ছোট পরিবারে। কাটাতে চেয়েছিলেন ছিমছাম নির্ঝঞ্ঝাট জীবন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
পুরনো এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতারকে এ কথা জানিয়েছিলেন লতা। গীতকার প্রশ্ন করেছিলেন যদি আবার জন্ম নেওয়ার সুযোগ আসে, তাহলে তিনি কী হতে চাইবেন? উত্তরে লতা জানিয়েছিলেন, তিনি চাইবেন যেন আর জন্মই না হয়। যদি সত্যিই পুনর্জন্ম হয়, তাহলে আর লতা মঙ্গেশকর হতে চান না। কারণ হিসেবে কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন।

এক জীবনে যতটা খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা মিলেছে লতার ততটাই রয়েছে সংগ্রামের অভিজ্ঞতা। গায়িকা জানিয়েছিলেন সেসব লড়াই কিংবা যন্ত্রণার কারণেই এমন প্রত্যাশা তার। সেইসঙ্গে চেয়েছিলেন পরের জন্মে মেয়ে না, ছেলে হয়ে ছোট একটি বাড়িতে জন্মাতে।
অল্প বয়সে বাবা হারান লতা। জীবন কঠিন হয়ে পড়ে তার। মা-ভাই-বোনের দায়িত্ব নিতে হয়। গান গেয়ে কষ্টেসৃষ্টে কাটত দিন। এক সাক্ষাৎকারে সেসব জানিয়েছিলেন। স্টুডিওতে যাওয়ার জন্য অন্যরা যখন টাঙ্গা ব্যবহার করতেন। অন্যদিকে তিনি অনেক সময় হেঁটেই যাতায়াত করতেন। রাস্তা খরচ বাঁচিয়ে বাড়ির জন্য সবজি কিনে নিয়ে যেতেন। নিজের আরামের চেয়ে পরিবারের প্রয়োজনই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

পরের জীবন খ্যাতি ও প্রাচুর্যে ভরপুর হলেও হয়তো প্রথম জীবনের সংগ্রাম গভীর দাগ কেটেছিল কিংবদন্তির মনে। পাশাপাশি হয়তো জনপ্রিয়তার দায়বদ্ধতাও যন্ত্রণা দিত। সে কারণেই সম্ভবত পরের জন্মে আর একই মানুষ জন্মাতে চাননি লতা মঙ্গেশকর।
আরআর