বিনোদন ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ পিএম
জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মেঘদল’-এর গিটারিস্ট এবং সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার রাশিদ শরীফ শোয়েব ডেঙ্গুসহ মারাত্মক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একদিকে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিক না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে মায়ের জমানো সঞ্চয়পত্র ভেঙে চলছে চিকিৎসা।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান শোয়েব।
তিনি জানান, গত সাত দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ডেঙ্গুর পাশাপাশি ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে। তিনি লেখেন, ‘অবস্থা ভয়ানক। জানি না কবে বাসায় যেতে পারবো। দোয়া রাইখেন।’
বকেয়া টাকা নিয়ে ক্ষোভে উগরে দিয়েছেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে নিকেতনে মিউজিশিয়ান ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ শুরু করা শোয়েব বলেন, ডেডলাইন মেনে আন্তরিকভাবে কাজ করায় কাজের পরিমাণ ও পরিধি বাড়তে থাকে। কিন্তু সময়মতো টাকা তোলার ক্ষেত্রে অনীহা এবং সরলতার সুযোগে বিভিন্ন পরিচালক ও প্রোডাকশনের কাছে বকেয়ার পাহাড় জমেছে। ২০১২ থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ সময়ে বিজ্ঞাপন (টিভিসি, ওভিসি), ওয়েব সিরিজ এমনকি সিনেমার সাউন্ড ও মিউজিক কাজের বকেয়া অর্থের পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কম হবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।
শিল্পীদের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে আক্ষেপ প্রকাশ করেন শোয়েব। তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার স্টুডিও আপগ্রেড, এখন আমার চিকিৎসা ব্যয়ের খরচ চালাতে হচ্ছে মায়ের জমানো টাকা দিয়ে। কী বীভৎস বাস্তবতা! এই ইন্ডাস্ট্রি তার ট্যালেন্টদের যে জায়গায় রাখে, এই হচ্ছে তার নমুনা।’
বকেয়া পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্টদের শেষবারের মতো সুযোগ দিয়েছেন এই গিটারিস্ট। পোস্টে এখনই কারও নাম প্রকাশ না করলেও অক্টোবর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। গায়কের ভাষায়, ‘আমি এই পোস্টে এখনই কাউকে মেনশন করছি না। এই মাসটা সময় দিচ্ছি আপনাদের। ধুলো পড়া ফাইলগুলো বের করে হালনাগাদ করে অক্টোবরের শুরুতে স্টুডিওতে চা খেয়ে যান। আর টাকাগুলো সসম্মানে পরিশোধ করে যান।’
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শোয়েব। তিনি যোগ করেন, ‘আমার দীর্ঘ লেখা পড়ার পরেও যদি আপনাদের টনক না নড়ে, তাহলে আরকি, নিজেদের ইমেজের যে রঙিন লুঙ্গি সেটা ত্যানা বানিয়ে দিব। খোদার কসম! পারলে সামলায়েন।’
বলে রাখা ভালো ‘হাওয়া’, ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘রইদ’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমার সাউন্ড ও সংগীতের সাথে যুক্ত ছিলেন শোয়েব।
ইএইচ/