বিনোদন ডেস্ক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
মাত্র সাড়ে তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ সবচেয়ে বেশি সিনেমা করেছেন শাবনূরের সঙ্গে। ঢালিউডের ইতিহাসে তাঁরা অন্যতম সেরা রোমান্টিক জুটি হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের মৃত্যুর মাধ্যমে আলোচিত জুটির ছন্দপতন ঘটে। আজ অভিনেতার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। সালমানের মৃত্যুর এত বছর পরও বিষয়টি মেনে নিতে পারেন না শাবনূর।
অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকীতে সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে শাবনূর লিখেছেন, ‘আজও বিশ্বাস হয় না, তুমি নেই সালমান। এত বছর পেরিয়ে গেলেও তোমার স্মৃতি আজও হৃদয়ে অমলিন। পর্দার সেই প্রিয় রাজপুত্র, মানুষের ভালোবাসার সেই স্বপ্নের নায়ক তুমি আজও বেঁচে আছো আমাদের স্মৃতিতে, ভালোবাসায়। তোমার অকাল প্রয়াণে আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল তা আজও পূরণ হয়নি। সময় চলে গেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তোমার জনপ্রিয়তা আর অভিনয়ের মায়া আজও মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘তোমার ৩০তম প্রয়াণ দিবসে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও অশেষ ভালোবাসা। যেখানেই আছো, ভালো থেকো প্রিয় সালমান শাহ। আল্লাহ তোমাকে জান্নাতবাসী করুন।’
১৯৮৫ সালে হানিফ সংকেতের একটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে তাঁর শোবিজ যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীকালে ‘পাথর সময়’, ‘ইতিকথা’, ‘নয়ন’-এর মতো বেশ কিছু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার জানান দেন তিনি। ১৯৯৩ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন সালমান।

শাবনূর ছাড়াও সালমান শাহ মৌসুমী, শাহনাজ, শাবনাজ, বৃষ্টি ও শাহনাজ পারভীন মিষ্টির সঙ্গেও জুটি বেঁধেছিলেন। ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘আনন্দ অশ্রু’-র মতো চলচ্চিত্রগুলো এখনও দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে ঢাকার ইস্কাটনের নিজস্ব বাসভবনে অকালে প্রাণ হারান এই অমর চিত্রনায়ক। তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে দীর্ঘকাল তদন্ত চললেও দেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তাঁর অভাব আজও অপূরণীয়। প্রয়াণের এত বছর পরও এতটুকু ভাটা পড়েনি তাঁর জনপ্রিয়তায়। কোটি মানুষের হৃদয়ে ‘স্বপ্নের নায়ক’ হয়ে বেঁচে আছেন তিনি।
ইএইচ/