Dhaka Mail Logo

বিনোদন

লোকসংগীতে ডিপ্লোমা করে যেভাবে স্বপ্নের নায়ক হয়েছিলেন সালমান শাহ

বিনোদন ডেস্ক

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১২ এএম

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। নব্বইয়ের দশকে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে এনেছিলেন নতুন জোয়ার। তবে ভাগ্য সহায় না হওয়ায় তা স্থায়ী হয়নি। মাত্র ২৪ বছরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। আজ ৬ সেপ্টেম্বর স্বপ্নের নায়কের ৩০তম প্রয়াণ দিবস।

১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সালমান শাহ। আগে থেকেই তার পরিবারে সংস্কৃতির চর্চা ছিল। ছোটবেলা থেকে তার ঝোঁক ছিল অভিনয় ও গানের প্রতি। ছায়ানট থেকে লোকসংগীতে ডিপ্লোমাও করেছিলেন তিনি। ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে মনোনিবেশ করেন বিনোদন জগতে। ১৯৮৫ সালে হানিফ সংকেতের একটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে তার শোবিজ যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীকালে ‘পাথর সময়’, ‘ইতিকথা’, ‘নয়ন’-এর মতো বেশ কিছু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার জানান দেন তিনি। চলচ্চিত্রে অভিষেকের আগে ১৯৯২ সালে সামিরা হকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

salman-shah_20260623_122158465_(1)

১৯৯৩ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন সালমান শাহ। প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাত করেন। রাতারাতি তারকা বনে যান তিনি। মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যার প্রায় প্রতিটি ছিল ব্যবসাসফল।

চলচ্চিত্রে সালমান শাহ ও শাবনূর জুটি ঢালিউডের ইতিহাসের অন্যতম সেরা রোমান্টিক জুটি হিসেবে স্বীকৃত। তারা একসঙ্গে ১৪টি সিনেমা উপহার দেন। এছাড়া মৌসুমী ও শাবনূরের পাশাপাশি শাহনাজ, শাবনাজ, বৃষ্টি, শাহনাজ পারভীন মিষ্টির সঙ্গেও জুটি বেঁধেছিলেন। ‘সুজন সখী’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বুকের ভেতর আগুন’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘আনন্দ অশ্রু’-এর মতো চলচ্চিত্রগুলো এখনও দর্শকের মনে জায়গা করে রেখেছে।

saloma_20251122_153126316

নব্বইয়ের দশকে সালমানের ফ্যাশন নজর কেড়েছিল, যা এখনও মুগ্ধ করে। কপালে ব্যান্ডানা, চোখে সানগ্লাস, জিন্স জ্যাকেট কিংবা স্টাইলিশ হেয়ারকাট—তার প্রতিটা স্টাইল তখনকার তরুণ সমাজকে দারুণভাবে আকর্ষণ করত।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে ঢাকার ইস্কাটনের নিজস্ব বাসভবনে অকালে প্রাণ হারান এই অমর চিত্রনায়ক। তার মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে দীর্ঘকাল তদন্ত চললেও দেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে তার অভাব আজও অপূরণীয়। প্রয়াণের এত বছর পরও এতটুকু ভাটা পড়েনি তার জনপ্রিয়তায়। কোটি মানুষের হৃদয়ে ‘স্বপ্নের নায়ক’ হয়ে বেঁচে আছেন।

ইএইচ/আরআর