গেল মাসে আদালতের রায়ে সালমান শাহর অপমৃত্যু মামলা রূপ নেয় হত্যা মামলায়। এতে দীর্ঘ তিন দশকের আক্ষেপ ঘোচে নায়কের ভক্ত ও পরিবারের সদস্যদের। বিচারের অপেক্ষায় মুখিয়ে থাকা মানুষগুলো আশায় বুক বাঁধে।
এরপর গেল ২১ অক্টোবর রমনা থানায় সালমান শাহ হত্যা মামলা দায়ের করেন নায়কের মামা ও চলচ্চিত্র পরিচালক আলমগীর কুমকুম। সামিরা হক, খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
মামলার সাত দিন না যেতেই সামিরা-ডনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। আসামি গ্রেফতার সময়ের ব্যাপার— ভেবে আশাবাদী হন ভক্ত ও নায়কের পরিবার। কিন্তু সে সময় আর আসেনি। সালমান হত্যা মামলার আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনেকের প্রশ্ন— সালমান হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন?
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম ঢাকা মেইলকে বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধৈর্য ধরেছি। তাছাড়া অপেক্ষার ফল মিষ্টি হয়। ২৯ বছর পর মিষ্টি হয়েছে। আরও কয়েকটা দিন দেখি। তবে আসামি কেন ধরা হচ্ছে না জানতে রমনা থানায় জিজ্ঞেস করতে পারেন।
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, বিষয়টা তিন দশকের। তাই আমাদের সময় সময় প্রয়োজন। যেহেতু দীর্ঘদিন চলে গেছে অতএব ওই সময়ে যে ইনভেস্টিগেশন হয়েছে সেসব কাগজপত্র দরকার। এরইমধ্যে কাগজ তুলেছি। এখন অ্যানালাইসিস করছি। আমি জানি সালমান শাহর ভক্তরা অধীর আগ্রহ নিয়ে আছেন। কিন্ত এমন না যে মামলাটি ১০-১৫ দিনে সমাধান করা যাবে। আমাদের সময় দিতে হবে। সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
এদিকে সালমান ভক্তদের প্রশ্ন, কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামদের? জবাবে এ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা আসামিদের ঠিকানায় পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের পাওয়া যায়নি। তারা যেন দেশের বাইরে পালাতে না পারেন সেজন্যও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
সালমান হত্যা মামলায় সামিরা-ডন ছাড়াও আসামির তালিকায় আছেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, ডেবিড, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এছাড়াও মামলায় আরও অনেককে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামিরা হক। কিন্তু সালমান শাহর পরিবার দাবি করেন, এটি কোনোভাবেই আত্মহত্যা নয়। দীর্ঘদিনের দাবির পক্ষে রায় দেন রাজধানীর মহানগর দায়রা জজ আদালত। গত ২০ অক্টোবর সালমানের মা নীলা চৌধুরীর আবেদন মঞ্জুর করে হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত নির্দেশ দেন আদালত।
আরআর

