বিনোদন ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
আজ ৩ সেপ্টেম্বর মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ। এদিন সহকর্মী শুভানুধ্যায়ীদের অনেকে স্মৃতিচারণ করছেন তার। এ তালিকায় আছেন টলিউড নির্মাতা ও অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে মহানায়ককে নিয়ে লিখেছেন তিনি। সেখানে জানিয়েছেন, মহাতারকা হয়েও অসম্ভব নিবেদিত ছিলেন ক্যামেরার সামনে। দৃশ্য বোঝাতে গিয়ে একবার ঘাড় ধরলেও প্রতিক্রিয়া দেখাননি তিনি।
বিশ্বজিতের পরিচালনায় ‘রক্ততিলক’ নামে একটি সিনেমায় পুলিশ অফিসার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উত্তম। ছবিটি ছিল অ্যাকশন ঘরানার। এতে ডাকাতের ভুমিকায় ছিলেন পরিচালক। চলন্ত ট্রেনে একটি দৃশ্য ছিল। যেখানে উত্তম কুমারের চরিত্র ঘুমিয়ে। তাকে খুন করতে দলবলসহ হাজির ডাকাতরূপী বিশ্বজিৎ।
কিন্তু দৃশ্যটি মোটেও আয়ত্তে নিতে পারছিলেন না উত্তম কুমার। বিশ্বজিতের বর্ণনায়, ‘‘ওই চলন্ত ট্রেনে একটা ‘লাইট অ্যান্ড শেড’ আলোর খেলা ছিল। তখন, ওঁর ক্লোজ়আপ যে-ই নিতে যাওয়া হচ্ছে, উনি অন্ধকারে চলে যাচ্ছেন, আলোয় থাকছেন না। কিছুতেই ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকছিলেন না। ফলে কিছুতেই মুখ বোঝা যাচ্ছে না ক্যামেরায়। এ বার ক্যামেরাম্যান বার বার শট নিচ্ছেন, কারণ কিছুতেই ঠিক করে হচ্ছিল না।’’
এরপর বলেন, ‘‘আমি রীতিমতো ওঁর ঘাড়টা ধরে ওঁকে দেখিয়ে দিই যে, ‘এই এতটা সামনে আসবে, আবার ঠিক এতটা পিছিয়ে যাবে। তাহলে ঠিক করে ক্যামেরায় ধরা পড়বে।’ সবাই হতবাক। অত বড় এক জন তারকার ঘাড় ধরেছি! কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না। কিন্তু, দাদা আমাকে কিচ্ছু বলেননি! পরে আমি গিয়ে বলি, ‘দাদা, আমি খুবই দুঃখিত। আমি তোমার ঘাড়ে হাত দিয়েছি। আমি তোমার ছোটভাই।’ তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘না না, ঠিকই তো করেছিস। আমি তো সত্যিই পারছিলাম না। তুই তো দেখিয়ে দিলি আমাকে। আমার সুবিধা হলো, একেবারে ‘টেক ওকে’ হয়ে গেল!’’
এদিকে উত্তম কুমার প্রতিক্রিয়া না দিলেও তাকে অনেকে ফুসলিয়েছিলেন বলে জানান বিশ্বজিৎ। বলেন, ‘‘একাধিক তারকা পরিচালক ছিলেন শুটিংয়ে। তাঁরাও ওঁকে জিজ্ঞাসা করেন যে, ‘আপনি কিছুই বললেন না?’ দাদা বলেছিলেন, ‘বিশ্বজিৎ কাজটা জানে। কী ভাবে কাজ বার করতে হয়, সেটাও জানে। খুব সহজ করে দেখিয়ে দিয়েছে আমাকে।’ ওঁর কোনও তারকাসুলভ অহঙ্কার ছিল না। এখানেই ওঁর ঔদার্য।’’
মহানায়কের জন্মশতবর্ষে টালিগঞ্জে চলছে মহা আয়োজন। তাতে যোগ দিয়েছেন নেতা থেকে অভিনেতা সবাই। অভিনেতার ভাস্কর্যে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আরআর