Dhaka Mail Logo

বিনোদন

সুশান্তের ম্যানেজার মৃত্যুর পাঁচ বছর পর সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

বিনোদন ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের প্রয়াত ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের রহস্যজনক মৃত্যু মামলায় সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মুম্বাই হাইকোর্ট।

২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাড এলাকার একটি বহুতল ভবনের ১৪ তলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশার। এর ঠিক কদিন পর বান্দ্রার ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতকে। দিশার মৃত্যুর পর মুম্বাই পুলিশ সে সময় আপমৃত্যুর রিপোর্ট নথিভুক্ত করেছিল।

বিচারপতি সারং কোতোয়াল এবং রঞ্জিতসিনহা রাজা ভোসলের হাইকোর্ট বেঞ্চ জানিয়েছে, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপযুক্ত তথ্য বা প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত বলে গণ্য করা যাবে না।

দিশার বাবা সতীশ সালিয়ানের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আবেদনে মেয়ের মৃত্যুর তদন্তে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। একইসঙ্গে আদালত মুম্বাই পুলিশকে সমস্ত মামলার নথিপত্র সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, তদন্তে যদি অপরাধের প্রমাণ না মেলে। তবে সিবিআইকে সংশ্লিষ্ট আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। 

রায় ঘোষণার পর আবেদনকারীর আইনজীবী নীলেশ ওঝা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আদালত সিবিআইকে সতীশের জবানবন্দি রেকর্ড, এফআইআর নথিভুক্ত, তদন্তের জন্য একজন সিনিয়র অফিসার নিয়োগ এবং মালবানি থানাকে সমস্ত প্রতিবেদন সিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। যার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে কাউকে বিনা কারণে অভিযুক্ত করা হবে না। পাশাপাশি, সিবিআই যদি কোনো নেতিবাচক প্রতিবেদন জমা দেয় তাহলে তাতে আপত্তি জানানোর অধিকার থাকবে। আমি আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।’ 

এর আগে আইনজীবী ওঝা অভিযোগ করেছিলেন, ‘প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি এবং সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা আদালতে তার প্রমাণও দিয়েছি। এসব বিষয় তদন্তকে প্রভাবিত করছিল। সুপ্রিম কোর্ট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা এবং সংবিধান বেঞ্চের স্পষ্ট গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও তারা এফআইআর দায়ের করেনি।’

প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ একে আত্মহত্যার ঘটনা বলে দাবি করে। তবে দিশার বাবা গত বছর হাইকোর্টে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে অভিযোগ করেন যে তার মেয়েকে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে।

এর আগে মামলার শুনানির সময় বিচারপতি ভারতী ডাংরে এবং বিচারপতি মঞ্জুষা দেশপাণ্ডের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ করা সত্ত্বেও কেন আকস্মিক মৃত্যুর রিপোর্ট নথিভুক্ত করা হলো। কেন এফআইআর করা হলো না। এছাড়া মৃত্যুর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও কেন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং এডিআর-এর কপি দিশার পরিবারকে দেওয়া হয়নি। 

ইএইচ/