বিনোদন ডেস্ক
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের ফিল্ম ও টেলিভিশন শিল্পে ধস এবং নিজে দেশের কাজ বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সরকারি প্রণোদনা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রণোদনার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে হলিউডের প্রভাবশালী তিনটি ইউনিয়ন।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ থিয়েট্রিক্যাল স্টেজ এমপ্লয়িজ (আইএটিএসই), স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড–আমেরিকান ফেডারেশন অফ টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস (এসএজি-আফট্রা) এবং টিমস্টার্স লোকাল ৩৯৯— এই তিন ইউনিয়ন কংগ্রেসকে দ্রুত ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আইন পাসের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন শিল্পকে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে এসএজি-আফট্রা-এর সভাপতি শন অ্যাস্টিন এবং জাতীয় নির্বাহী পরিচালক ডানকান ক্র্যাবট্রি-আয়ারল্যান্ড এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রডাকশন আমাদের শিল্পের প্রাণশক্তি। যারা এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, সেই কমিউনিটিগুলোর জন্যও এটি জরুরি। বিনোদন শিল্প বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন সাহসী নেতৃত্ব সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল।’ তারা আরও জানান, এই উদ্যোগের পেছনে ভূমিকা রয়েছে অভিনেতা ও ইউনিয়ন সদস্য জন ভয়েটের, যাকে ট্রাম্প হলিউডের বিশেষ রাষ্ট্রদূত বানিয়েছেন।
ইউনিয়ন নেতাদের মতে, সরকারি প্রণোদনা চালু হলে হাজার হাজার চাকরি দেশে ফিরে আসবে। আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় ব্যবসায় নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
আইএটিএসই জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা দাবি জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের সমর্থন তাদের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করেছে। ইউনিয়নটির ভাষ্যমতে, ‘অন্যান্য দেশগুলো লোভনীয় প্রণোদনা দিয়ে আমাদের প্রডাকশনগুলো ছিনিয়ে নিচ্ছে। এই মুহূর্তে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে সরকারি প্রাণদনা অত্যন্ত জরুরি।’
এর আগে ট্রাম্প এক পোস্টে কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলেন, ‘আমেরিকায় বিনোদন জগতের চাকরি ফেরাতে কংগ্রেসের দ্রুত একটি আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করা উচিত। এটি পুরো দেশের উপকারে আসবে। আমরা রূপালি পর্দায় যেসব ছবি দেখি সেগুলো বিশ্বের চলচ্চিত্র রাজধানী আমেরিকাতে তৈরি হওয়া উচিত। আসুন, কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করি!’
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্প একেবারে ধুলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। কাজগুলো এখন কানাডা ও অন্যান্য দেশে চলে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কোনো কাজই হয় না। হলিউড এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে! নামে মাত্র হলিউড, আদতে সেখানে কোনো কাজই হচ্ছে না। সেখানে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’
প্রণোদনা দিলে দ্বিগুণ লাভ হবে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই পরামর্শ দিচ্ছেন আমাদের সিনেমা ও টিভি নির্মাণ ব্যবসাকে আবার আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে নিতে কর ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করা উচিত! কর ছাড়ের পেছনে যে টাকা খরচ হবে তার দশ গুণ বেশি টাকা সরকারের কোষাগারে ফিরে আসবে।’
প্রণোদনার পরিমাণ কেমন হবে তা জানাননি ট্রাম্প। তবে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চলছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ আর্থিক সহায়তা আইন পাস করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ মেক্সিকোর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার চলচ্চিত্র কর্মীর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘টিমস্টার্স লোকাল ৩৯৯’ ট্রাম্পের ঘোষণাকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এদিকে কাজ ধরে রাখতে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যও বেশ তৎপর রয়েছে। মহামারি, হলিউডের ধর্মঘট এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানলের কারণে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় রাজ্য সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ফিল্ম ও টেলিভিশন কর ছাড় ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। যা ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিদেশে তৈরি ছবির ওপর শতভাগ শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি এখন সরকারি প্রণোদনার পক্ষে কথা বলছেন। এটিকে হলিউডের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মোশন পিকচার অ্যাসোসিয়েশন (এমপিএ)। সংস্থাটির প্রধান চার্লস রিবকিন বলেন, ‘সরকারি প্রণোদনা চালুর মাধ্যমে আমেরিকার সব অঙ্গরাজ্যে ছবি নির্মাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। যা দেশকে আবার সিনেমা তৈরির প্রতিযোগিতায় এক নম্বর অবস্থানে নিয়ে যাবে।’
ইএইচ/