বিনোদন ডেস্ক
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মানসী পারেখ। সম্প্রতি সদগুরুর ইশা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে ‘কৈলাস মানস সরোবর’ যাত্রায় অংশ নিতে তিব্বত ও চীন সীমান্তে অবস্থান করছিলেন তিনি।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে তিব্বতের ভূখণ্ডে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘গিরং’ বা ‘কেরুং’ সীমান্ত বন্দরে মানসী ও তাঁর তীর্থযাত্রী দলের পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক একদিন আগে গত বুধবার বন্যা আঘাত হানে। বানের পানির তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে সীমান্ত বন্দরটি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের কিছু ভিডিও ও ছবি শেয়ার করে মানসী জানান, ‘ইশা ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে আমি এবং আমার পুরো দলটি এই মুহূর্তে চীনের অভ্যন্তরে নিরাপদ রয়েছি। অথচ দুর্যোগের মাত্র পাঁচ দিন আগে আমি যখন গিরং বন্দরে গিয়েছিলাম সেখানকার মানুষ আমাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। আজ চোখের পলকে সেই চেনাজানা প্রাণবন্ত জায়গাটিকে নদীর গ্রাসে হারিয়ে যেতে দেখে শিউরে উঠছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গত দুই দিন ধরে আমাদের পুরো দলটি নিউ ঝোংবা এলাকার একটি হোটেলে আটকা অবস্থায় সময় কাটাতে হয়েছে।
এদিকে আকস্মিক বন্যায় নেপালের রসুয়া, ধাদিং, নুওয়াকোট এবং তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভতে কোশী নদীর পানি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন।

বর্তমানে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে হেলিকপ্টার ও স্থলপথে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। আটকেপড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মাঝে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইশা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও মানসী পারেখসহ অন্য তীর্থযাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে চীনা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ইএইচ/