বিনোদন ডেস্ক
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৫ পিএম
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি একদিকে যেমন সাম্য ও মানবতার কবি। অন্যদিকে বাংলা ইসলামি সাহিত্য ও সংগীতের পুনর্জাগরণের অগ্রদূত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি থেকে নজরুল রচনা করেছেন অসংখ্য হামদ ও নাত। যার মধ্যে কালজয়ী এক সৃষ্টি ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ এলো রে দুনিয়ায়’।
আরবি-ফারসি শব্দের সুনিপুণ কথা মালা সাজিয়েছেন তিনি। ভাবধারা এবং রাগপ্রধান সুরের গজলটি আজও শ্রোতার হৃদয়ে আলোড়ন তোলে। শত বছর পেরিয়ে গেলেও এর সুর ও আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি। কিন্তু কীভাবে কাজী নজরুলের কলমে উঠে এসেছিল চিরসবুজ নাতে রাসুল (সা.)? এর সুরের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দূরদেশের ইতিহাস। চলুন জেনে নেওয়া যাক ‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ’ সৃষ্টির সেই ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট।
গজলটি আরবি-ফারসি শব্দের মিশ্রণে লিখিত। যা নজরুলের অনন্য ভাষাশৈলীর দক্ষতা ফুটে উঠেছে। এই নাতে রাসুল (সা.)-এর গুণাবলী, দুনিয়ায় তার আগমনের তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। মানবজাতির প্রতি এই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন কবি।
এটি রাগপ্রধান সংগীতের ধারায় রচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায় জাতীয় কবি যখন এই গজলগুলো সুর দিতেন তখন হারমোনিয়াম ব্যবহার করতেন। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ’ গজলটির সুর নজরুল কোথায় পেয়েছিলেন বা কার কাছ থেকে শিখেছিলেন তা নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনাকালে জার্মানি বাহিনীর বিরুদ্ধে ইরাকে প্রশিক্ষণে পাঠানো বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সৈনিকদের কাছ থেকেই ‘কাটিবিম’ এর সুরটি পেয়েছিলেন নজরুল। আর সেই সুরেই রচনা করেছিলেন এ নাতটি।ইসলামিক বই ও ডিজিটাল কোরআন সংগ্রহ করা
‘কাটিবিম’ সুর কি? নজরুল গবেষক আসাদুল হক বলেন, এটি সিরিয়ার হাজার বছরের পুরনো সুর। ‘বানাত ইস্কান্দারিয়া’ গানে এ সুর ব্যবহার করা হয়েছিল। তুরস্ক সংস্করণে এ সুরকে 'কাটিবিম' বলে ডাকা হয়।
‘ত্রিভুবনের প্রিয় মুহাম্মদ’ গজলটি একশ বছর আগে লেখা হলেও তার আবেদন কমনি বিন্দুমাত্র। বিভিন্ন ধর্মীয় সাংস্কৃতি প্রতিযোগিতাও শোনা যায়। বর্তমান সময়ের অনেক ইসলামি সংগীতশিল্পীদের কণ্ঠে মূর্ছনা ছড়াই এ গজল।
ইএইচ/