Dhaka Mail Logo

বিনোদন

‘ক্যাফে আমব্রেলা’র অভিজ্ঞতা বর্ণিতা-নাযাহ-আমিনার

রাফিউজ্জামান রাফি

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম

শুরুতেই সেরার মুকুট পরা বিদুষী বর্ণিতা, নাযাহ নাওয়ার ও আমিনা ইসলামের অভিষেকও হয়েছে দারুণভাবে। শিহাব শাহীনের ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র ওয়েব ফিল্ম দিয়ে পথচলা শুরু। ডাকসাইটে নির্মাতা ও জনপ্রিয় সহশিল্পীদের সঙ্গে ক্যামেরায় দাঁড়িয়ে নানারকম অভিজ্ঞতা জমা হয়েছে ঝুলিতে। সেসব ঢাকা মেইলকে শুনিয়েছেন তিন সুন্দরী। 

অভিজ্ঞতা 

একই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গীদের সঙ্গে প্রথম কাজ হওয়ায় বিদুষী বর্ণিতার মনে হয়েছে শুটিং সেটে না, লাক্সের আসরেই আছেন। তিনি বলেন, ‘লাক্সের পর আমার প্রথম বড় কাজ। লাক্সের মেয়েরা একসঙ্গে করছি। রিহার্সালও একসঙ্গে হয়েছে। মনে হতো লাক্স থেকে পুরোপুরি বের হইনি। একসঙ্গে ক্যারিয়ারের শুরুর বিষয়টিও খুব এক্সাইটিং ছিল।’ 

শুরুতেই বড় পরিচালক ও সহশিল্পী— উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি হয়ে দাঁড়িয়েছিল উদ্বেগেরও কারণ। লাক্স সুপার স্টার ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়নের কথায়, ‘বড় নির্মাতার সেট, সঙ্গে বড় অভিনেতা— নার্ভাসনেসের কারণ ছিল। কেননা আমরা একদম নতুন। কতটুকু ভালো করতে পারব— সংশয় কাজ করছিল। ভয়, আনন্দ মিলিয়ে মিশ্র অনুভূতি ছিল।’ 

প্রথম রানার-আপ নাযাহ ঠিক বুঝতে পারছিলেন না কোথা থেকে শুরু করবেন। কারণ ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘লাক্স থেকে বেরিয়ে প্রথম কাজ-ই শিহাব শাহীন স্যারের সঙ্গে। এটা আমার কাছে বড় সুযোগ মনে হয়েছে। কেননা ওনাদের মতো নির্মাতার সঙ্গে সহজে কাজ করা যায় না। অনেক বছর পর এরকম সুযোগ আসে।’ 

দ্বিতীয় রানার আপ আমিনার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তার কথায়, আমার প্রথম ডেব্যু হতে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে। কাজটি আমার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সারাজীবন মনে রাখব। দর্শকরাও আশা করি ভালোবাসবেন। যেহেতু শিহাব শাহীন স্যারের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছি সেহেতু আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। কেননা ওনার থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।  প্রত্যেকটা জিনিস নিখুঁতভাবে ধরিয়ে দেন। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। জীবনে তেমন আক্ষেপ থাকবে না।’

lux

সহ-শিল্পীদের আন্তরিকতা

ওয়েব ফিল্মে বর্ণিতা-নাযাহ-আমিনার সহশিল্পী জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, পার্থ শেখ ও আরেফিন জিলানী। তাদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ তিন সুন্দরী। বর্ণিতা বলেন, ‘উনারা ভীষণ আন্তরিক। এত বড় হয়েও আমাদের অনেক সম্মান দিয়েছেন। তৌসিফ মাহবুব ভাইয়া আমাকে অনেক হেল্প করেছেন। শিখিয়েছেন, ওনার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করেছেন। ডায়লগ ডেলিভারিতে সাহায্য করেছেন।’ 

নাযাহ তো পার্থর প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বললেন, ‘নতুন হিসেবে যতটা সহযোগিতা আশা করেছিলাম নির্মাতা ও সহশিল্পীদের কাছে তার চেয়ে বেশি পেয়েছি। আমার কো আর্টিস্ট ছিলেন পার্থ শেখ। উনি অসম্ভব হেল্পফুল আর কো-অপারেটিভ। আমি কতটুকু ভালো করছি সেদিকে খেয়াল রেখেছেন। অসম্ভব মেধাবী শিল্পী তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম সহশিল্পী হিসেবে পার্থ শেখকে পেয়ে আমি ভাগ্যবান।’

জিলানীর মতো সহশিল্পী পেয়ে সব সহজ হয়ে উঠেছিল আমিনার। বললেন, ‘জিলানী ভাই অনেক কো-অপারেটিভ, সাপোর্টিভ ও ফ্রেন্ডলি। সবকিছুতে সহযোগিতা করেছেন। ওনার সঙ্গে কাজ করে আরাম পেয়েছি।’  

ক্যাপ্টেন অব দ্যা শিপে মুগ্ধ

নির্মাতা শিহাব শাহীনের রাশভারী বৈশিষ্ট্যর কারণে তিন নবাগতা কাচুমাচু থাকলেও মুগ্ধ হয়েছেন ঠিকই। সে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বর্ণিতা বললেন, ‘শিহাব শাহীন স্যার আমাদের অনেক সময় দিয়েছেন। প্রায় এক মাসের মতো ওনার ওখানে গিয়ে রিহার্সাল করেছি। আমাদের ধরে ধরে শিখিয়েছেন।’ 

নাযাহর কথায়, ‘ওনাকে একটু রাগী বলেই সবাই জানে। আমি কোনোরকম কথাই বলতাম না। চুপ করে থাকতাম। ব্যাপারটা খেয়াল করেছিলেন। তখন বলতেন, তুমি কি চাও বলো, তোমাকে কীভাবে ট্রিট করতে হবে।’ 

আমিনার বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য, ‘শিক্ষক শাসন, আদর— দুটোই করবে। সেরাটা যেন দিতে পারি শাসনটা সেজন্যই। ওনার ব্যাপারটা আমি এভাবে দেখি। অভিনয়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেন না তিনি। যে করেই হোক ভেতর থেকে বের করে আনেন। তবে উনি অসম্ভব মানবিক। সেটের সবার দেখভাল করেন। শিল্পী থেকে শুরু কলাকুশলীরা ঠিকমতো খেলেন কি না, কারও কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না সব ব্যাপারে খেয়াল রাখেন।’ 

digonoর_(90)

চরিত্রকথন

এক ওয়েব ফিল্মে তিনজনের তিন গল্প। ফলে চরিত্রও আলাদা। নিজেকে চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত দাবি করে নাযাহ বললেন, ‘কাজের আগে বেশ কিছুদিন আমাদের ওয়ার্কশপ করিয়েছেন শিহাব স্যার। যেখানে অভিনয়, চরিত্র সম্পর্কে ধারণা পেয়েছি। আমার চরিত্রটা একদম ভিন্ন। ব্যক্তিজীবনের সঙ্গে কোনো মিল নেই। ফলে অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। অনেক কিছু করতে হয়েছে। অন্যদের চরিত্রগুলো ঘরে বাইরে মিলিয়ে। আমার গল্পটা সম্পূর্ণ আউটডোরে। রাস্তাঘাটে দৌড়াদৌড়ি করেই কেটেছে। বাসাবাড়িতে থাকিইনি।’ 

আমিনা বললেন, ‘ক্যারেক্টারটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং এবং ইন্টারেস্টিং। গল্পটা যখন পাই তখন বেশ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। চরিত্রটির সঙ্গে সুবিচার করতে পারব কি না— চিন্তিত ছিলাম। কেননা আমি বাস্তব জীবনে যেমন ক্যারেক্টারটি সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি মনে করি দর্শক চরিত্রটির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারবেন। আই থিঙ্ক ইট উইল বিগ সারপ্রাইজ।’ 

প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে সহশিল্পী 

বর্ণিতা-নাযাহ-আমিনার শুরুটা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসবে। ‘ক্যাফে আমব্রেলা’র সেটেও কি তা বিদ্যমান— জানতে চাইলে বর্ণিতা বললেন, ‘প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আমাদের পথচলা শুরু। তবে সেটা ছিল শুধু স্টেজে। মঞ্চ থেকে নামলেই বন্ধু। এখানেও তাই। রিহার্সালের সময় খেয়াল করতাম— কে কতটা ভালো করছে, কে কত প্রশংসা পেল। একজন আরেকজনকে খোঁচাও দিতাম— তোকে প্রশংসা করল, আমাকে কেন করল না। ফ্রেন্ডলি কম্পিটিশন যাকে বলে।’ 

নাযাহর কথাও তাই, ‘সবসময়-ই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। প্রতিযোগিতার সময় নিজেদের সামনে রাখার চেষ্টা করেছি। ক্যামেরার বাইরে ওই বিষয়টি কাজ করেনি। লাক্সের পর্ব যেহেতু শেষ তাই প্রতিযোগিতার বিষয়টি ছিল না। বরং আমার মনে হয়েছে আমার গল্পে শুধু আমি। আর কেউ নেই। নিজে কতটা ভালো করতে পারি সেটা প্রাধান্য পেয়েছে।’

একই সুরে বললেন আমিনাও। তার কথায়, ‘লাক্সে থাকাকালীন সবাই নিজের সেরাটা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এখনও সেরকমই মনে হচ্ছে। তবে তাদের আমি কখনও প্রতিযোগী মনে করিনি। সহশিল্পী মনে করেছি।’ 

shihab_shaheen_bmdb_image

অপেক্ষায় কাছের মানুষ

লাক্স থেকে বেরিয়ে অনেকে অনেক কাজে জড়ালেও বর্ণিতার এখনও কোনো কাজ আসেনি। তাই ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির তর সইছে না জানিয়ে বলেন, ‘লাক্স থেকে বেরিয়েছি প্রায় চার মাস। এরমধ্যে আমাদের অনেকে অনেক কাজ করছে কিন্তু আমার কোনো কাজ আসেনি। এটাই প্রথম। তাই সবাই অধীর আগ্রহে বসে আছে। তাদের এক প্রশ্ন, বর্ণিতকে কখন দেখব?’ 

এদিকে নাযাহর আসছে জোড়া কাজ। বছর তিনেক আগে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের ওয়েব কনটেন্ট ‘অ্যানি’তে অভিনয় করেছিলেন। সেটিও আসছে। পরপর দুটি কাজ নিয়ে তার ও কাছের মানুষদের উন্মাদনাটা বেশিই। বলেন, ‘সবাই অপেক্ষায় আছে। পরপর দুটি কাজ আসছে বলে পরিবারের সবাই উত্তেজিত ও আনন্দিত। কেননা দুজনেই বড় নির্মাতা। একজন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়িয়েছেন। আরেকজন জনপ্রিয় নির্মাতাদের একজন। তাদের নামের সঙ্গে আমার নাম থাকাটা পরিবারের জন্য গর্বের। আমিও কৃতজ্ঞ।’

আমিনার কাছের মানুষরাও মুখিয়ে আছেন। বললেন, ‘তারা খুবই এক্সাইটেড। কাজটি নিয়ে চারদিকে কথা হচ্ছে। তাদের উন্মাদনাটা আরও বেড়ে গেছে। আব্বু-আম্মুসহ সবাই আগ্রহ নিয়ে বসে আছে।’

আরআর