Dhaka Mail Logo

বিনোদন

যে কারণে প্রবীর মিত্রের ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংরক্ষণ করেনি পরিবার 

বিনোদন প্রতিবেদক

১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

বছর দেড়েক হলো মারা গেছেন ঢাকাই সিনেমার রূপালি পর্দার নবাব প্রবীর মিত্র। তবে দর্শকের হৃদয়ে আজও টাটকা পর্দার অভিনেতা। আজ ১৮ আগস্ট জন্মদিনে সামাজিক মাধ্যমে সহকর্মী শুভানুধ্যায়ীদের অনেকেই তাকে নিয়ে করছেন স্মৃতিচারণ।

তবে বিশেষ দিনটিতে তেমন কোনো আয়োজন রাখেননি অভিনেতার সন্তানরা। কেননা মানুষটিই নেই। ফলে দিনটি একসময় সুখের হলেও আজ যেন কিছুটা হলেও বেদনার রংয়ে। ঢাকা মেইলকে প্রবীর মিত্রের বড় ছেলে মিঠুন মিত্র বলেন, ‘আজ বিশেষ কোনো আয়োজন নেই। তবে আমরা ভাই বোনেরা এক হতে পারি। এরকম একটা গেট টুগেদার হতে পারে।’

probir1_20231120_141100874_(1)

গেল বছরের মাঝামাঝিতে প্রবীর মিত্রের নামে চালু করা হয় ওয়েবসাইট। নতুন প্রজন্মকে অভিনেতা সম্পর্কে জানাতে নেওয়া হয় এ উদ্যোগ। এর বাইরে অভিনেতার নিয়ে কোনো উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে দাবি আছে কি না জানতে চাইলে প্রবীরপুত্র বলেন, ‘সরকার যদি নিজ উদ্যোগে বাবাকে নিয়ে কিছু করে সাধুবাদ জানাব। তবে আমাদের থেকে এরকম কোনো দাবি নেই। ভক্তরা বাবাকে মনে রেখেছেন, আজও তাকে ভালোবেসে যাচ্ছেন এতেই আমরা সন্তুষ্ট।’ 

অনেকে পারিবারিকভাবে গুণীজনদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র সংরক্ষণ করেন। কেউবা গড়ে তোলেন মিউজিয়াম। প্রবীরমিত্র পরিবার সে পথে হাঁটেনি। কেননা মৃত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিসপ্ত্র সংরক্ষণের পক্ষে নন তারা। তবে বাবার পুরস্কারগুলো ঠিকই আগলে রেখেছেন। জীবদ্দশায় জাতীয় পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন প্রবীর মিত্র। সেসব যত্নসহকারে সাজিয়ে রেখেছেন সন্তানেরা। মিঠুন বলেন, ‘ওনার ব্যবহার্য জিনিসপত্র আমরা রাখিনি। তবে ওনার অ্যাওয়ার্ড, সম্মাননাগুলো সংরক্ষণ করেছি।’

probir3_20231120_144027149_(1)

একটা সময় দিনরাত ক্যামেরার সামনে কাটত প্রবীর মিত্রের। ফলে বন্ধু বন্ধু বান্ধব বলতে ছিল চলচ্চিত্রের মানুষজন। তবে সন্তানদের কেউ অভিনয়ে নাম লেখাননি। চলচ্চিত্রের মানুষজনের সঙ্গেও নেই তাদের যোগাযোগ। মিঠুন বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকতে চলচ্চিত্রের মানুষজনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। উনি অসুস্থ থাকাকীলন খোঁজ খবর নিতেন কেউ কেউ। তবে এখন আমাদের সঙ্গে কারও যোগাযোগ নেই।’

প্রবীর মিত্রের চার সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে সামিউল ইসলাম মারা যান অভিনেতার জীবদ্দশায়। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছিল তার। বর্তমানে আছেন দুই ছেলে মিঠুন, সিফাত ইসলাম এবং এক মেয়ে ফেরদৌস পারভীন। প্রবীরকন্যা আগে চাকরি করলেও এখন গৃহিণী। স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর কলাবাগানে থাকেন। মিঠুনও পরিবার নিয়ে একই এলাকায় বাস করেন। অন্যদিকে সিফাত থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।

probir-mitro_20250106_172631312 
আগে চাকরি করতেন মিঠুন। এখন পারিবারিক মার্কেট দেখাশোনা করেন। আবাসস্থল দূরত্ব বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি দুই ভাইকে। কেননা সিফাতও তার সঙ্গে মিলেও দেখভাল করছেন পারিবারিক মার্কেটটি। 

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট কুমিল্লার চান্দিনায় জন্মগ্রহণ করেন প্রবীর মিত্র। তার পুরো নাম প্রবীর কুমার মিত্র। পুরান ঢাকায় বড় হওয়া প্রবীর মিত্র স্কুলজীবন থেকেই নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। ‘লালকুটি’ থিয়েটার গ্রুপের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবন শুরু হয়। 

prabir-mitr

দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’-এর মতো জনপ্রিয় ছবি। ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় এ গুণী অভিনেতার মৃত্যু হয়।

আরআর