Dhaka Mail Logo

বিনোদন

‘শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলেই নীতি নির্ধারকদের ঘুম ভাঙবে’

বিনোদন ডেস্ক

১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

সম্প্রতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। খবরটি সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন তিনি। তবে শিক্ষাজীবনের এই অর্জনের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অলি নুরের মৃত্যুর খবরে অভিনেত্রীর আনন্দ রূপ নিয়েছে গভীর শোকে। 

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক পোস্টে ফারিয়া ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘গতকাল যে সময় আইইউবি থেকে মাস্টার্স শেষ করার আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছিলাম, ঠিক সেই সময় আইইউবির একজন ছাত্র অলি নুর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছিলেন।’

‘সরকার, আইনপ্রণেতা ও প্রশাসনের চেয়ে কি মোটরচালিত রিকশাচালকেরা বেশি শক্তিশালী? তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না?’, প্রশ্ন অভিনেত্রীর। তিনি যোগ করেন, ‘ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে এ ধরনের রিকশা দেখতে না চাওয়ার দাবিটি বহুদিনের। এটি কোনো বড় দাবি নয়’

যানজট ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারিয়া লেখেন, ‘কিছুদিন আগে ৩০০ ফিট সড়কের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এআই ক্যামেরা বসানোর কারণে রাস্তা ফাঁকা থাকলেও চালকেরা সিগন্যাল মেনে থামছেন। প্রযুক্তি মানুষের আচরণ কীভাবে বদলে দিতে পারে। তখনই চোখে পড়ে ‘বিশেষ’ কিছু মোটর রিকশা চালক। গাড়ি থেমে আছে, সিগন্যাল লাল, কিন্তু তারা দিব্যি চলে যাচ্ছে।

মোটর রিকশাচালদের কটাক্ষ করে তিনি লেখেন, ‘তাঁদের আবার কীসের সিগন্যাল? তারা বাংলার শেষ নবাবের বংশধর! বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সিগন্যালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে পারেন, কিন্তু তারা পারেন না!’

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন, লাইসেন্সিং ও রুট নির্ধারণের কথা অনেক দিন ধরেই আলোচনা হলেও পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিশাল ফারাকের কারণে সাধারণ মানুষকে বারবার মূল্য দিতে হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। নুরের মতো আর কতজনের মৃত্যুর পর রিকশা নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানতে চেয়ে তিনি বলেন, ‘আর কত পরিবার তাদের সন্তান, স্বামী, বাবা কিংবা ভাইকে হারানোর পর আমরা দুঃখজনক দুর্ঘটনা বলে দায় সারব? নাকি শাহবাগে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলে তবেই নীতি নির্ধারকদের ঘুম ভাঙবে?’

কারো জীবিকা কেড়ে নেওয়ার পক্ষে নন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই নিয়ন্ত্রিত, নিরাপদ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা। কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে কোনো গোষ্ঠীর রাস্তার ওপর প্রভাব যদি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্নটা শুধু সড়ক নিরাপত্তার থাকে না। প্রশ্নটা হয়ে যায়, এই শহরের রাস্তায় আসলে কার অধিকার বেশি? আর কত মৃত্যু লাগবে উত্তরটা পাওয়ার জন্য?’

ইএইচ/