বিনোদন প্রতিবেদক
১৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
রূপালি গিটারে বাংলা ভাষাভাষীদের মাতিয়েছেন আইয়ুব বাচ্চু। ঝড় তুলেছেন কোটি ভক্তের হৃদয়ে। তিনি নেই, কিন্তু জাদুকরী সুর আজও ছড়িয়ে আছে মায়াজাল বিছিয়ে। আজ ১৬ আগস্ট, কিংবদন্তির জন্মদিনে তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হামিন আহমেদ।
ঢাকা মেইলকে তিনি বলেন, ‘বাচ্চু যেখানেই থাকুক, তার জন্মদিনের শুভকামনা জানাই। এ দেশের শিল্পী, শ্রোতা, সাধারণ গানপাগল মানুষ— তাকে অন্তরে ধারণ করে। নতুন প্রজন্মের মিউজিশিয়ানরা তাদের শো শুরু বা শেষ করেন আইয়ুব বাচ্চুর গান দিয়ে। যখন তারা গানগুলো গায়, তাদের সঙ্গে শ্রোতারাও আবেগ, উচ্ছ্বাসে গলা মেলায়। কিছু গান ও ব্যান্ড মানুষের হৃদয়ে আজীবন থেকে যায়। মিউজিশিয়ান হিসেবে এটাই আইয়ুব বাচ্চুর সবচেয়ে বড় সফলতা।
প্রয়াত গায়কের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা টেনে হামিন আহমেদ বলেন, ‘দেশে এবং দেশের বাইরে মাইলসের সঙ্গে এলআরবি বহু স্টেজ শেয়ার করেছে। এর বাইরে শুরু থেকেই আমার সঙ্গে বাচ্চুর একটা বিশেষ সংযোগ ছিল। সে চট্টগ্রাম থেকে যখন ঢাকা এলো তখন এলিফ্যান্ট রোডে একটি রুমে থাকত। সেই সময় থেকে আমাদের সখ্যতা। তখন যে জিনিসটি চোখে পড়েছিল, সংগীত নিয়ে বাঁচব— এই অদম্য আগ্রহ ও মানসিকতা তার মধ্যে প্রবলভাবে ছিল।
গিটার নিয়ে বিশেষ উন্মাদনা ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। ছয়তারের এ বাদ্যযন্ত্র দিয়ে ভেঙেছিলেন প্রচলিত ধারা। উল্লেখ করে হামিন বলেন, “আশির দশকের শেষ বা নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে দেশের অধিকাংশ ব্যান্ডের গানে কিবোর্ডের প্রচলন ছিল। কিন্তু আইয়ুব বাচ্চু শুরু থেকেই গিটারকে ব্যান্ডের প্রধান যন্ত্র হিসেবে প্রাধান্য দিত। সে সবসময় বলত, ‘গিটারই সবকিছু।’ পরবর্তীতে এস আই টুটুল (এলআরবির কিবোর্ড বাদক) ব্যান্ড ছেড়ে যাওয়ার পর, বাচ্চু এলআরবিকে চার সদস্যের একটি শক্তিশালী ব্যান্ড হিসেবে দাঁড় করায়। কোনো কিবোর্ড ছাড়াই ব্যান্ড পরিচালনা করে এবং গিটারকে মূল যন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। অন্তহীন অনুশীলনের মাধ্যমে সে গিটার দিয়ে যেমন শ্রোতাদের চরম উত্তেজিত করতে পারত, তেমনি গভীর আবেগঘন অনুভূতিও ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম ছিল।”
নিজেদের সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ করতে গিয়ে হামিন জানান, একজন মিউজিশিয়ানের প্রতি আরেকজন মিউজিশিয়ানের যে শ্রদ্ধা থাকা উচিত তা তাদের মধ্যে ছিল। যেকোনো বিষয়ে আইয়ুব বাচ্চু তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করতেন। সে সময় বাংলাদেশে হামিনের কাছেই প্রথম এমপ্লিফায়ার ছিল। যা দিয়ে আইয়ুব বাচ্চুও বাজাতেন।
পুরোনো একটি স্মৃতি স্মরণ করে হামিন আহমেদ বলেন, “এলআরবির প্রথম সোলো শো হয় শিশু একাডেমিতে। সে সময় বাচ্চু খুব চিন্তিত ছিলেন। আমাকে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়ে গিয়েছিল। বলেছিল,‘আপনাকেই সাউন্ড করতে হবে।’ শোটি সফল হয় এবং ঢাকায় এলআরবির যাত্রা শুরু হয়।”
শুধু একজন গিটারিস্ট বা গায়ক নন, সুরকার হিসেবেও আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন অদ্বিতীয়। তার মেলোডি সুর ছিল অসম্ভব সুন্দর। অন্যের জন্য করা সুরে মুন্সিয়ানা স্পষ্ট ছিল। উদাহরণ হিসেবে ব্যান্ডতারকা ও স্ত্রী কানিজ সুবর্ণার প্রথম অ্যালবামের কথা উল্লেখ করে হামিন বলেন, ‘কানিজ সুবর্ণার প্রথম অ্যালবামের সব সুর আইয়ুব বাচ্চু করেছিল। কানিজ নিঃসন্দেহে ভালো গায়িকা। কিন্তু বাচ্চুর করা সুরগুলোর কারণেই তখন একজন ফিমেল পপ আর্টিস্ট হিসেবে কানিজের দারুণ আত্মপ্রকাশ সম্ভব হয়েছিল।’
ইএইচ/আরআর