রাফিউজ্জামান রাফি
২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
নির্মাণে সিদ্ধহস্ত অনম বিশ্বাস। বড়পর্দার ‘দেবী’ কিংবা ওটিটি মাধ্যমের ‘দুই দিনের দুনিয়া’, ‘রঙিলা কিতাব’ তার প্রমাণ। এবার তিনি আনছেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল নিয়ে নির্মিত সিনেমা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’। সম্প্রতি শুরু হয়েছে ছবির প্রচারণা।
প্রচারণার জন্য অনম বিশ্বাস বেছে নেন গেল ২৫ জুলাই। দিনটি বাঙালি জাতির জন্য বিশেষ। এ জনপদকে দখলদার পাকিস্তানি আর্মির থাবা থেকে রক্ষা করতে যখন অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিকামী জনতা তখন ওই দিন স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরি আর তহবিল গড়তে ময়দানে নেমেছিল স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।
ঢাকা মেইলকে অনম বলেন, ‘‘১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই ভারতের নদীয়ায় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল তাদের প্রথম ম্যাচ খেলে। ম্যাচ চলাকালীন তাদের পতাকা ওড়াতে দেওয়া হচ্ছিল না। কারণ বাংলাদেশকে তখনও কেউ স্বীকৃতি দেয়নি। কিন্তু পরে তারা পতাকা ওড়ায়। সেটা ছিল দেশের বাইরে প্রথমবার বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো। এটা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাই সেদিনের ওই মানুষদের ট্রিবিউট দিতে ২৫ জুলাই থেকে ‘ঠিকানা বাংলাদেশে’র প্রচারণা বা কথোপকথন শুরু করা।’’
প্রকাশিত থিমেটিক পোস্টার নিয়ে বলেন, ‘এটা একটা প্রতীকী ভাস্কর্য। রেজওয়ান পারভেজ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ওই জায়গা থেকে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রচারণার শুরুতেই সামাজিক মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’। বিষয়টি ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পজিটিভ রেসপন্স দেখে এক ধরনের ভালো লাগা তৈরি করেছে। মনে হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্পিরিট আমাদের চারপাশের মানুষের ভেতর আছে। ওই স্পিরিটটার সঙ্গেই সবাইকে যুক্ত করতে চাই।’
পরিচালক মনে করছেন চলমান সময়ে ছবিটি মুক্তি দেওয়া খুব জরুরি। কারণ ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘‘আমি মনে করি সময়টা ‘ঠিকানা বাংলাদেশ’ মুক্তির জন্য খুব জরুরি। কেননা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমরা চারপাশে বিভিন্ন ব্যাখ্যা শুনছি। বিভিন্ন ন্যারেটিভও দাঁড় করানো হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এটাকে পূঁজিও করেছে। কিন্তু আমি মনে করি এটা ছিল জনমানুষের যুদ্ধ। প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কোনো না কোনোভাবে এই যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। ওই সময়কার রাজনৈতিক চিত্রও ছবিতে উঠে আসবে।’’
এ ছবির মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে ১৯৭১-এর সঙ্গে যুক্ত করতে চান ‘দেবী’র নির্মাতা। তার কথায়, ‘‘ঠিকানা বাংলাদেশে’র মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে ৭১-এর সংযোগ তৈরি করা-ই মূল ভাবনা। এই দেশের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অবদান ছিল। এটা যদি আমরা বুঝতে ও বোঝাতে না পারি তাহলে নিজেকে এই দেশের নাগরিক বলে দাবি করতে পারব না।’’
ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চলবে ’ঠিকানা বাংলাদেশে’র। অনমের কথায়, ‘‘সামনে আরও থিমেটিক ভিজ্যুয়াল আসবে। আর্টিস্ট প্রেজেন্সসহ পোস্টার, টিজার, ট্রেলার আসবে। ’ঠিকানা বাংলাদেশ’ নামে একটি টাইটেল ট্র্যাক আছে। ইমন চৌধুরীর সুরে। সেটাও আসবে।’’

২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পায় সিনেমাটি। এর চিত্রনাট্য পরিচালকের দেড় বছরের গবেষণার ফল। তবে কাজ গুছিয়ে আনতে লেগেছে কয়েক বছর। অনম জানালেন বাজেটজনিত জটিলতার কথা। বললেন, ‘বাজেটজনিত কারণে ছবির কাজ এক সময়ে থেমে যায়। কেননা অনুদানের অর্থ শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমিও সেভাবে লগ্নিকারক খুঁজিনি। কেননা আমি মনে করি ওই দক্ষতা আমার নেই। শেষে নিজের গচ্ছিত অর্থ, ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে শুটিং শুরু করি। একটু করে টাকা জমিয়েছি একটু করে কাজ করেছি। যা এখনও চলমান।’
সৃজনশীল ও আর্থিক দিক একসঙ্গে সামলানোর অভিজ্ঞতা সুখকর না বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এটা খুব ভয়াবহ। তবে সিনেমার ফুটেজ যখন দেখি তখন খুব ভালো লাগে। কিন্তু যখন ভাবি মুক্তির সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা আসবে সেগুলো কীভাবে সামলাব তখন আবার চিন্তা চেপে বসে।’
ছবি মুক্তির তারিখ জানালেন না পরিচালক। পোস্ট প্রডকাশনের কাজে দাড়ি টেনেই সে ঘোষণা দেবেন। তিনি চান নিজের তাগিদ থেকে ‘ঠিকানা বাংলাদেশে’র সঙ্গে যুক্ত হোক দর্শক। বললেন, ‘দর্শকরা দেখার তাগিদ থেকে দেখুক। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখুক। আমরা চাই দর্শকের সঙ্গে কমিউনেকশন করতে। প্রচারণার মাধ্যমে তাদের কৌতূহলী করতে। সেই কৌতূহল থেকে তারা সিনেমা হলে যাক।’
‘ঠিকানা বাংলাদেশে’র মাধ্যমে ফের এক হচ্ছেন আরিফিন শুভ ও নুসরাত ফারিয়া। এ ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ, খায়রুল বাসার, আজাদ আবুল কালাম, শতাব্দী ওয়াদুদ প্রমুখ।
আরআর