মো: ইনামুল হোসেন
১৬ জুন ২০২৬, ০৭:০২ পিএম
সংখ্যার চেয়ে মানে প্রাধান্য দেন অভিনেত্রী নাঈমা আলম মাহা। হুটহাট কোনো কাজে হাত দেন না। দেখে-শুনে ফেলছেন পা। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ‘মেহু’ চরিত্র জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে তার। সিরিয়ালটিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে ফোনালাপ জমেছিল অভিনেত্রীর।
ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর ফ্যান ফলোয়ার কি আগের তুলনায় বাড়ছে?
হ্যাঁ, প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে বাড়ছে। এত পরিমাণ ভালোবাসা আর প্রশংসা পাব কখনও কল্পনাও করতে পারিনি।
অনুভূতিটা কেমন?
অনুভূতি খুবই ভালো। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ জনপ্রিয় সিরিজ। সবাই এখানে কাজ করার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সবার স্বপ্ন পূরণ হয় না। আলহামদুলিল্লাহ, আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। দর্শক প্রচুর ভালোবাসা দিয়েছেন। আগামীতে আরও ভালো ভালো কাজ উপহার দেওয়ার ইচ্ছা আছে।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নিয়ে সমালোচনা শোনা যায়। যখন প্রস্তাব পান, তখন কি ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো চিন্তা হয়েছিল?
এরকম কোনো কিছু চিন্তা করিনি। চোখ বন্ধ করে পরিচালকের ওপর বিশ্বাস করেছি। কাজ করার পরে ভালো লাগছে। ওরকম কোনো সমস্যা এখন পর্যন্ত ফেস করিনি।
সিন্ডিকেটের চক্করে পড়তে হয়েছে?
হ্যাঁ, এটা এখন একটা ট্র্যাডিশন হয়ে গেছে। কিছু সিঙ্গেল নাটকে সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছি। এ কারণে কাজগুলো আমার ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়নি। কিন্তু এটা নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু অভিনয়টা পারি। নিজের যোগ্যতা দিয়ে যতদূর যাওয়া যায়, যেতে চাই। সিন্ডিকেট ভাঙবে, আবার হবে, কিছুদিন পর আবার থাকবে না— এভাবেই চলে।
পারিশ্রমিকের বৈষম্য...
পারিশ্রমিকের বৈষম্য তো সবসময় ফেস করতে হয়। ওভাবেই মানিয়ে নিচ্ছি। আমি আমার অবস্থান অনুযায়ী নিচ্ছি। পুরুষ অভিনয়শিল্পীরা একটু বেশি পারিশ্রমিক নেন। এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাই বলে লাভ নেই।

কাজ করতে গিয়ে কখনও অনৈতিক প্রস্তাব পেয়েছেন?
না। পরিচালক কিংবা চ্যানেল যাদের সাথেই কাজ করেছি তাঁদের সঙ্গে শুধু কাজের বিষয় এবং রেমুনারেশন নিয়ে কথা হয়েছে। এর বাইরে কোনো কিছু ফেস করিনি। কারণ আমি অনেক স্ট্রেট ফরোয়ার্ড। কেউ কিছু বললে সাথে সাথে ইয়েস অর নো বলে দিই।
কেউ কোনো চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেলে সে ধরণের চরিত্রে প্রস্তাব আসতে থাকে। আপনার ক্ষেত্রে এরকম হয়েছে?
শুরুর দিকে গৃহিণী, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া চরিত্র করেছি। সেটা বারবার আসছিল। পরিচিতি পাওয়ার পর নিজেকে পরিবর্তন করতে শুরু করেছি। দুই-তিন বছর পর থেকে কাজের মধ্যে ভিন্নতা বজায় রাখতে পেরেছি। এখন চরিত্র পছন্দ না হলে সরাসরি না বলে দিই।
নিজের পছন্দের কোনো চরিত্র আছে?
বেশ কয়েকটি আছে। এখন বেছে বেছে কাজ করার চেষ্টা করি। এজন্য কাজের সংখ্যা কম। ‘প্রেশার কুকার’, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর কারণে বছরটা নিজের মনে হলেও সামনে খুব কম কাজ আসবে। কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে চিন্তা করি শেষের কাজটি থেকে ভালো করতে হবে।

সমালোচনার মুখে নিজেকে কীভাবে শক্ত রাখেন?
সমালোচনা থেকে আমি অনুপ্রাণিত হই। অনেক সময় নিজের ভুলগুলো নিজে বুঝি না, দর্শকদের চোখে ধরা পড়ে। পরবর্তী কাজে সেগুলো মাথায় রেখে শুটিং করি।
ফুটবল বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করছেন?
ব্রাজিলকে সমর্থন করছি। তবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আমার পছন্দের খেলোয়াড়।
বর্তমান ব্যস্ততা…
মোহাম্মদ হাসান শিকদার পরিচালিত ধারাবাহিক ‘দলছুট পাখিরা’ নিয়ে ব্যস্ত। নাটকটি এটিএন বাংলার পর্দায় দেখা যাবে। প্রথম লটের শুটিং শেষ করলাম। আর ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর সঙ্গে আছি।
ইএইচ/