images

বিনোদন

অভিনেত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, ৭ দিনের রিমান্ডে স্বামী

বিনোদন ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম

ভারতে প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণী যৌতুকের দাবিতে খুনের শিকার হলেও তা অনেক সময় গণমাধ্যমের আড়ালে থেকে যায়। গত ১২ মে ভোপালে মডেল ও অভিনেত্রী তনিশা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু পুরো ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মাত্র পাঁচ মাস আগে আইনজীবী সমর্থ সিংহের সাথে গাঁটছড়া বাঁধেন ৩৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী। বিয়ের অর্ধবছর না ঘুরতেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয় শ্বশুরবাড়ি থেকে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তনিশার বাবা-মা ও ভাইবোনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে অভিনেত্রীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন তাঁর স্বামী সমর্থ সিংহ এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ। তনিশার শাশুড়ি একজন সাবেক বিচারক। তনিশার পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্যদিকে, এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ। তাঁর দাবি, তনিশা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তা রজনীশ কাশ্যপ কৌল জানিয়েছেন, তাঁরা সিংহ পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুকজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন স্বামী সমর্থ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের জাবালপুর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

শনিবার ভোপালের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস অনুদিতা গুপ্তার আদালতে সমর্থ সিংহকে হাজির করা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। শুনানির সময় সমর্থের আইনজীবী তাঁর পাসপোর্টটি আদালতের কাছে জমা দেন।

তনিশার পরিবার প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছিল। প্রথম প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও মৃত্যুর আগে শরীরে বেশ কিছু আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে আজ রোববার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

তনিশার পরিবার সম্প্রতি তাঁর পাঠানো কিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ প্রকাশ করেছে। একটি মেসেজে তনিশা লিখেছিলেন, ‘আমার জীবনটা জীবন্ত নরক হয়ে গেছে।’ পরিবারের অভিযোগ, সবচেয়ে বড় বিবাদ বাঁধে গত এপ্রিলে তনিশা গর্ভবতী হওয়ার পর। তাঁরা জানান, স্বামী ও শাশুড়ি তনিশার চরিত্র নিয়ে কুৎসিত প্রশ্ন তোলেন এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। যদিও গিরিবালা সিংহের দাবি, তনিশা নিজেই সন্তান চাননি দেখে গর্ভপাত করিয়েছিলেন। এরপর তনিশার বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো তাঁর মৃত মেয়ের নাম কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা মাত্র।

ঘটনার রাতের বর্ণনা দিয়ে তনিশার বাবা নবনিধি শর্মা বলেন, ‘১২ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে তনিশা তার মায়ের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলছিল। হুট করেই লাইনের সংযোগ কেটে যায়। এরপর টানা ২০ মিনিট আমরা কল করলেও কেউ ধরেনি। পরে শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ ফোন ধরে শুধু বলেন— ও আর নেই।’ তনিশার বাবা প্রশ্ন তোলেন, একজন সাবেক বিচারক হয়েও কেন তাঁরা পুলিশে খবর না দিয়ে সময় নষ্ট করলেন? জবাবে গিরিবালা সিংহ জানান, তনিশাকে হাসপাতালে নিয়ে বাঁচানোই তখন তাঁদের প্রথম লক্ষ্য ছিল।

এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বললেও প্রভাবশালী মহলের প্রভাবে তদন্ত ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তনিশার পরিবার। জনরোষ ও বিতর্কের মুখে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব জানিয়েছেন, মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এটি এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। 

ইএইচ/