বিনোদন ডেস্ক
০৬ মে ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
দশকের পর দশক নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে কোটি ভক্তের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ডলি জহুর। পর্দায় মা কিংবা ভাবির চরিত্র জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। বর্তমানে সিনেমাতে অনিয়মিত হলেও ছোটপর্দায় বেশ সক্রিয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সামাজিক মাধ্যমে দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্য নিয়ে গভীর আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন এই গুণী শিল্পী।
তিনি বলেন, ‘আজকাল আমার দর্শক আমাকে আর ভালোবাসে না। ভালোবাসে না বলেই পট করে একটা কমেন্ট করে এবং সেই কমেন্টে যে একটা মানুষের ভিত নড়ে যেতে পারে, সেটা তারা বুঝতে পারে না।’
ডলি জহুর আরও বলেন, ‘এই দুঃখটা নিয়ে আমি মরব। ৫০ বছর হলেও কী হবে? আমার আসলে এখানে বড় কষ্ট আছে। আমি আগে কখনো এটা নিয়ে ভাবিনি বা চর্চাও করতাম না। কখনও ভাবিনি যে আমার গায়ে কোনো দাগ লাগবে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি কখনও ভাবিনি যে কেউ আমাকে নেগেটিভ কোনো কথা বলবে। আল্লাহর কসম, কখনও ভাবিনি আমি। কিন্তু এটাও যে মানুষ বলে, সেটা আমি এখন বুঝতে পারছি। যাই হোক, বুঝে কোনো লাভ নেই। ভালো নাও বাসতে পারে। বয়স হলে বয়স্ক আর্টিস্টদের কেউ পছন্দ করে না, সেটাও সত্যি কথা আমাদের দেশে।’
নিজের প্রাপ্তি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, ‘৫০ বছরে অনেক প্রাপ্তি ছিল, অনেক পেয়েছি, দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছি। আমাকে দেখার যে আগ্রহগুলো দেখতাম, ভালো লাগত। কিন্তু এখন জানি না, আমার মারা যাওয়ার পর কেউ দোয়া করবে কি না। কেউ বলবে কি না আহারে বেচারি মারা গেছে! তখন তো দেখতেও পাব না, জানতেও পারব না। যাই হোক, সেটা বাদ দাও, ওসব কথা বলে লাভ নেই।’
সত্তরের দশকে মঞ্চ নাটক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও আশির দশকে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন তিনি। চলচ্চিত্রে ‘মা’ কিংবা ‘ভাবি’র চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। চার দশকের অভিনয় জীবনে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘দীপু নম্বর টু’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘বাবার আদেশ’, ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘চাচ্চু’-এর মতো জনপ্রিয় সিনেমা।