বিনোদন ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ এএম
বিভিন্ন সিরিজ সিনেমায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী। প্রথম নজর কেড়েছিলেন জনপ্রিয় ওয়েব কনটেন্ট ‘পঞ্চায়েত’ -এ নতুন সচিব হয়ে। সেখান থেকেই সফলতার পথ ধরে চলা শুরু।
তবে শৈশবে বিনোদকে চলতে হয়েছে চরম দারিদ্রতাকে সঙ্গী করে। সম্প্রতি এক পডকাস্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে জানিয়েছেন, উৎসবে পোশাক পেতেন না, হয়েছেন জাতিগত বৈষম্যের শিকার, এখনও যেতে দেওয়া হয় না নিজ গ্রামের মন্দিরে।

বিনোদের গ্রাম কর্ণাটকে। তার কথায়, ‘কর্ণাটকে আমার গ্রাম। সেখানে এখনও জাতি বৈষম্য বিদ্যামান। গ্রামটি দ্বিধাবিভক্ত, একটি অংশ উচ্চবর্ণের আরেকটি নিম্নবর্ণের জন্য। দলিতরা থাকত সম্পূর্ণ অন্য একটি জায়গায়, যেটা গ্রাম থেকে একদম আলাদা।’
বাবার সঙ্গে নিজ গ্রামে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেসব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘একবার আমি বাবার সঙ্গে গ্রামে গিয়েছিলাম। তখন আমার বয়স মাত্র বারো বছর। আমরা যে হোটেলে খেয়েছিলাম সেখানে নিজের খাওয়ার প্লেট নিজেকেই ধুতে হয়েছিল। তবুও খাবারের দামে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। এখনও এমন একটি মন্দির আছে যেখানে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয় না।’
উৎসবের দিনগুলোও আনন্দ বয়ে আনত পারত না বিনোদের পরিবারের জন্য। বরং অর্থকষ্টে কাহিল পরিবারটি উদযাপনের অক্ষমতায় ভুগত। বিনোদ বলেন, ‘উৎসবের দিনগুলো আমাদের জন্য ছিল আরও কষ্টকর। অন্যদের মতো উদযাপন করতে পারতাম না। আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল, অন্যের দয়াতেই আমাদের উদযাপন নির্ভর করত।’

দীপাবলি ভিজে উঠত বাবা-মায়ের চোখের জলে। অভিনেতার কথায়, ‘আমি প্রায়ই আমার বাবা-মাকে কাঁদতে দেখেছি। উৎসব এলে আমি ভাবতাম কেন এই দিনগুলো আসে! দীপাবলি কেন আসে!’
অভিনয়ে নাম লেখানোর আগে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন পেশা বেছে নিতে হয়েছে বিনোদকে। গায়ে চাপিয়েছেন প্রহরীর পোশাকও। কঠোর পরিশ্রমের ধকল সইতে না পেরে হাতে পায়ে পড়েছে ফোসকা।

আজও সেসব অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করেন অভিনেতা। বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতাই শিখিয়েছে কাজের ভিত্তিতেই মানুষের সম্মানের বিচার করা হয়। সকলের একটা বদ্ধপরিকর ধারণা আছে, যত বড় কাজ তত বেশি সম্মান।’
ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ‘পরী’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে। ছোটখাট চরিত্রে কাজ করতেন। ২০২৪ সালে তার ভাগ্য বদলে দেয় পঞ্চায়েতের তৃতীয় সিজন। সেখানে নতুন সচিবের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। আর পেছনে তাকাতে হয়নি। এরপর ক্যারিয়ারে যোগ হয় ‘জলি এলএলবি ৩’ ও ‘থাম্মা’র মতো সিনেমা।
আরআর