মো: ইনামুল হোসেন
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পুতুলের বিয়ে’ও ‘সুপ্তাদের বাড়ি’নাটক দুটি দর্শকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। নাটকের সাফল্য ও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ঢাকা মেইলের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেতা মীর রাব্বি।
‘পুতুলের বিয়ে’ ও ‘সুপ্তাদের বাড়ি’—নাটক দুটি বেশ সাড়া পাচ্ছেন, অনুভূতি কেমন?
আমাদের কাজ করার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া। দর্শক এত ভালোবাসা দিচ্ছেন এটা জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুভূতি। সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা। আমার কাজগুলো মানুষ পছন্দ করছেন এবং প্রশংসা করছেন। সত্যি বলতে, ‘বুক পকেটের গল্প’ নাটকটি ছিল আমার ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। এর আগে এজেন্সি বা অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, এই নাটকের জনপ্রিয়তা আমাকে পেশাদার অভিনেতা হিসেবে নিয়মিত কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। দর্শকদের ভালোবাসা একজন শিল্পী হিসেবে আমার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। যা কাজের প্রতি ভালোবাসা বাড়িয়ে দেয়।

শুটিংয়ের সময় জানতেন নাটক দুটি এত আলোচিত হবে?
শুটিং শুরুর আগে থেকেই ‘পুতুলের বিয়ে’ এবং ‘সুপ্তাদের বাড়ি’ কাজ দুটি নিয়ে ভীষণ আশাবাদী ছিলাম। নাটক দুটি ভিন্নধর্মী কনসেপ্টের। গত এক-দেড় বছর ধরে পারিবারিক গল্প বলার যে চল শুরু হয়েছে এবং দর্শক যেভাবে তা গ্রহণ করছেন সেটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন। এমন গল্পের অংশ হতে পেরে আমরা শুরু থেকেই বেশ এক্সাইটেড ছিলাম। বিশেষ করে ‘সুপ্তাদের বাড়ি’ নিয়ে আগ্রহটা ছিল অনেক বেশি। নব্বই দশকের আবহকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলাটা ছিল আমাদের জন্য বেশ চমৎকার একটি অভিজ্ঞতা। শেষ পর্যন্ত কাজটি সফল হয়েছে। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব পরিচালক, লেখক থেকে শুরু করে প্রতিটি কলাকুশলীর। কারণ, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো কাজ কখনোই সার্থকতা পায় না। আমার মনে হয়, চিত্রনাট্য নিজেই এত শক্তিশালী ছিল যে আমরা সবাই মিলে কেবল আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কাজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন?
চিত্রনাট্য, পরিচালক, বাজেট, প্রোডাকশন ডিজাইন—সবগুলো বিষয় একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। আমি কাজ করার আগে প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বের সাথে খেয়াল করার চেষ্টা করি। দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে স্বাভাবিকভাবেই একজন পরিচালকের কাজের ধরন সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়ে যায়। আবার নাটকটি কোন চ্যানেলের জন্য নির্মিত হচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে বাজেট এবং কাজের মান নির্ধারিত হয়। সবকিছুর সমন্বয় থাকলে আমি কাজ করার জন্য আগ্রহী ও উৎসাহিত বোধ করি।

“পুতুলের বিয়ে’ নাটকটি সমাজের অন্ধ মানুষের চোখ খুলে দেওয়ার মতন গল্প”—এটা দর্শকদের মন্তব্য। পাশাপাশি তিশা-রাব্বি জুটির নতুন কাজ দেখতে চায় ভক্তরা।
তানজিন তিশা মেধা আর কঠোর শ্রম দিয়ে আজকের এই অবস্থান অর্জন করেছেন। ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকটি দর্শক যেভাবে গ্রহণ করছেন তার অন্যতম কারণ হলো তিশা। ও ‘ফাংশনাল সাইকোসিস’ আক্রান্ত রোগীর চরিত্রটি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এমন একটি গল্পে শহীদুজ্জামান সেলিম ভাই ও তিশার মতো গুণী শিল্পীদের সাথে কাজ করাটা আমার জন্য একটা লোভনীয় কাজ ছিল। আমি কাজটা করতে চেয়েছি এবং কাজ করার এক্সপেরিয়েন্সও ভীষণ ভালো। দর্শকরা আমাদের জুটিকে আবারও পর্দায় দেখতে চান। আমিও আশা করব যে ডিরেক্টররা সেগুলো মাথায় রেখে পরবর্তীতে কাজ ডিজাইন করবেন।
তিশা ও অথৈ-এর মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কি নাটকের ভিউ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে?
আমি যতটুকু জানি তারা দুজনেই সুসম্পর্কের জায়গায় ফিরে এসেছেন। আমার মনে হয় এই বিষয়টি নিয়ে এখন আর কথা না বলাই ভালো। তবে, কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোনো খবর ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে সেটা নিয়ে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেও অনেকে হয়তো নাটকটি দেখেছেন! কিন্তু আমার বিশ্বাস, নাটকটি দেখার পর দর্শকরা বুঝতে পারবেন সবাই অত্যন্ত শ্রম দিয়ে কাজটি শেষ করেছেন।

আপনাকে নাটকে কম দেখা যায় কেন?
আমি পর্দায় কাজ শুরু করেছি অনেক দেরিতে। তবে বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি কাজ করছি। অনেক কাজ জমা হয়ে আছে, যা সম্পন্ন হলেও এখনও মুক্তি পায়নি। তাই হয়তো মনে হচ্ছে আমি কম কাজ করছি। এছাড়া আমি মনে করি, একজন শিল্পীর জন্য দর্শক ও পরিচালকের কাছে ‘প্রয়োজনীয়’ হয়ে ওঠা জরুরি। আমি সেই জার্নির মধ্যে আছি। বড় কাজের অংশ হতে চাই বলেই একটু বেছে কাজ করছি।
‘সুপ্তাদের বাড়ি’ নাটকে তানিয়া বৃষ্টির সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
তানিয়া বৃষ্টি ভীষণ ভালো মনের একজন মানুষ। সে এত কো-অপারেটিভ, হাম্বল আর একদম সহজ একজন মানুষ। খুব সহজে বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ার মতো একজন মানুষ। কাজের ব্যাপারে ভীষণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, অত্যন্ত দায়িত্বশীল এবং কঠোর পরিশ্রমী। এত অসুস্থতা নিয়েও কাজ করে গেছে, আমাদেরকে একটুও বুঝতে দেয়নি। আমরা লেট নাইট কাজ করেছি, পুরা প্রেশারটাই ও কাঁধে নিয়েছে। আমাদের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ও হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং সার্জারি হয়। সবকিছু ছাপিয়ে কাজ শেষ করার যে মানসিকতা, তা সত্যিই বিরল। তাঁর সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আমরা আবারও কাজ করব।

‘পুতুলের বিয়ে’র শুটিংয়ে ইমোশনাল কোনো মুহূর্তের কথা মনে পড়ে?
শুটিংয়ের প্রতিটি দৃশ্যই ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। কাজ করার সময় আমরা সবাই চরিত্রের গভীরে গিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। একটি গ্রামে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মেয়ের জীবনের বাস্তবতা ইউনিটের সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল। মানিকগঞ্জে আমরা দীর্ঘ সময় ধরে রাতের পর রাত শুটিং করেছি। সেখানকার স্থানীয়রা সহযোগিতা করেছেন। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধৈর্য ধরে আমাদের পাশে ছিলেন। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, পুতুলের প্রতি তাদের এক ধরনের মায়া কাজ করছে। তারা এমনভাবে গল্পের সাথে মিশে গিয়েছিলেন যে, শুটিং দেখার সময়ও তারা ইমোশনালি কানেক্ট করতে পারছিলেন। এটি সত্যিই আমাদের জন্য এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
আগামী কোরবানি ঈদে দর্শকদের জন্য কী থাকছে?
বেশ কিছু সিঙ্গেল নাটকের পরিকল্পনা চলছে। কাজ এবং সময় মিলে গেলে ইনশাআল্লাহ কোরবানি ঈদেও স্পেশাল কিছু কাজ নিয়ে হাজির হব।
ইএইচ/