images

বিনোদন

আশা ভোঁসলে নেই ভাবতেই পারছি না: সাবিনা ইয়াসমিন

বিনোদন ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮ এএম

ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তলোকে। গায়িকার মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। 

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে নেই ভাবতেই পারছি না। ছোটবেলা থেকেই তাকে চিনতাম। জীবনে দুইবার তাঁকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিল, যা আজও আমার মনে দাগ কেটে আছে। কলকাতায় ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার গান শুনে তিনি এত প্রশংসা করেছিলেন যে আমি লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলাম। স্টুডিওতে উপস্থিত থাকা বরেণ্য সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে বলেছিলেন, ‘সাবিনা ইয়াসমিন খুব ভালো গেয়েছে।”

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে

যে ঘরে স্বামী মারা গেছেন সে ঘরে আর কখনও প্রবেশ করেননি আশা ভোঁসলে

তিনি আরও বলেন, ‘ওই কাজটিতে কিশোর কুমারের সঙ্গে একটি দ্বৈত গান এবং একটি একক গান গেয়েছিলাম। হিন্দি ও বাংলা—দুই ভাষাতেই কাজ করেছি। আশা ভোঁসলের মতো এত ভালো মানুষ আমি কম দেখেছি। এত বড় শিল্পী হয়েও তিনি ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ। তার সান্নিধ্যে না এলে তা বোঝা সম্ভব নয়।’

ঢাকায় আরেকটি স্মরণীয় মুহূর্তের কথাও তুলে ধরে সাবিনা বলেন, ‘একবার তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তার গান শুনতে গিয়েছিলাম। সামনে বসে মনোযোগ দিয়ে গান শুনেছি। পরে পেছনের মঞ্চে গিয়ে দেখা হলে তিনি বললেন—তোমাদের গান খুব শোনার সুযোগ পাই না, তবে কিছু গান শুনেছি, খুব ভালো লেগেছে। তোমার কিছু গান শ্রোতার মুখেও ফিরে। তিনি প্রশংসা করেই যাচ্ছিলেন। আমি মনে করি, এত প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য আমি নই।’

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন

জানা গেল আশা ভোঁসলের মৃত্যুর কারণ

আশার প্রয়াণে সংগীতঅঙ্গনে তৈরি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা। কিংবদন্তি গায়িকা প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘যেখানেই থাকুন, খুব ভালো থাকুন।’ 

রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন আশা ভোঁসলে। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে বুকে ব্যাথা নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আশা। ছিলেন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরে আসা হলো না তাঁর। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতে রাজত্ব করেছেন আশা। হাজার হাজার গান আর অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কয়েক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। 

ইএইচ/