ভারতীয় কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। সুরের এই জাদুকরের বিদায়বেলায় আবারও আলোচনায় উঠে আসছে তাঁর জীবনের নানা ব্যক্তিগত অধ্যায়; বিশেষ করে সংগীত পরিচালক আরডি বর্মনের সঙ্গে তাঁর সেই অমর প্রেমকাহিনি।
সত্তরের দশকের শেষদিকে আশা ভোঁসলে এবং আরডি বর্মন দুজনেই হিন্দি সিনেমার জগতে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছিলেন। আরডি বর্মনের বৈপ্লবিক সংগীত ভাবনা আর আশার কণ্ঠের মূর্ছনা—এই দুইয়ের মিলনে তৈরি হয়েছিল অজস্র কালজয়ী গান। কাজের সূত্র ধরেই একসময় তাঁদের মধ্যে গভীর প্রেমের সঞ্চার হয়, যার পরিণয় ঘটে ১৯৮০ সালে।
বিজ্ঞাপন
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে
কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে মারা গেছেন
আশির দশকে সংগীতের ধারা বদলাতে শুরু করলে আরডি বর্মনের ক্যারিয়ারে কিছুটা ভাটা পড়ে। সেই কঠিন সময়েও স্বামীর পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিলেন আশা। বিয়ের ১৪ বছরের মাথায়, ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নেন আরডি বর্মন।
১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘মুভি’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত অজিতাভ মেমনের স্মৃতিচারণা থেকে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যু মেনে নিতে পারছিলেন না আশা ভোঁসলে। শোকের সেই মুহূর্তে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—যে ঘরে বর্মনের নিথর দেহ পড়ে আছে, সেখানে তিনি আর প্রবেশ করবেন না।
বিজ্ঞাপন
অসম প্রেম, স্বামীর ঘরে নির্যাতন, সন্তান পেটে শ্বশুরবাড়ি ছাড়েন আশা
অশ্রুসজল চোখে আশা তখন বলেছিলেন, ‘আমি ওই ঘরে যাব না। আমি ওঁর মৃত মুখ দেখতে পারব না। আমি ওঁকে জীবিত অবস্থাতেই মনে রাখতে চাই।’
স্বামীকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই দুঃসময়ে আশাকে সামলাতে এগিয়ে এসেছিলেন তাঁর প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু গুলজার। কান্নায় ভেঙে পড়া আশাকে তিনি আগলে রেখেছিলেন পুরোটা সময়। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বর্মনের বাসভবনে হাজির হয়েছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চনও।
ইএইচ/




