বিনোদন ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ পিএম
পর্দা থেকে বাস্তবে প্রেম-বিয়ে। মাঝে বিচ্ছেদ। পরে সন্তানের টানে ফের এক হওয়া। সব মিলিয়ে সিনেমার মতোই বৈচিত্রপূর্ণ ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সিনেমার নায়ক নায়িকা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকারের জীবন। অভিনেতার মৃত্যুতে ফের আলোচনায় এ জুটি।
রাহুল-প্রিয়াঙ্কা দুজনেরই প্রথম সিনেমা ছিল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। ২০০৮ সালে মুক্তি পায় ছবিটি। তুমুল ব্যবসা করে। পাগল প্রেমিক কৃষ্ণের চরিত্রে রাহুল যেন সবটা ঢেলে দিয়েছিলেন। পর্দায় কৃষ্ণ-পল্লবীর প্রেম দেখে কলকাতার দর্শক ফের টলিপাড়ার সিনেমায় বুঁদ হন। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা নিজেরাও নিজেদের মধ্যে বুঁদ হন।

দুই বছর চুটিয়ে প্রেম করে ২০১০ সালে ঘর বাঁধেন পর্দার কৃষ্ণ-পল্লবী। তাদের ভালোবাসার ফসল হিসেবে কোল আলো করে আসে পুত্র সন্তান সহজ। তবুও সহজ হয়নি যৌথ জীবন।
সম্পর্কে তৃতীয় ব্যক্তির আনাগোনার গুঞ্জন ওঠে। সেসব নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রাখলেও পথ ঠিকই বেঁকে যায়। ২০১৭ সাল থেকে আলাদাবাস শুরু করেন তারা। তবে দুজনকে এক অদৃশ্য চম্বুকে ধরে রেখেছিল ছেলে সহজ। সন্তানের সহজ শৈশবের কথা ভেবেই ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে জোড়া লাগে সম্পর্কের সুতা।

সেসময় রাহুল বলেছিলেন, যে মামলাটা চলছিল অনেক দিন ধরে, প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এখনও শিফ্ট করিনি, তবে খুব শীঘ্রই থাকব একসঙ্গে।" বাবা-মাকে ফের এক ছাদের নিচে পেয়ে সবচেয়ে খুশি হয়েছিল সন্তান সহজ।
তারপর থেকে সব ঠিকঠাকই চলছিল। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা ব্যস্ত হয়ে পড়েন লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের দুনিয়ায়। সন্তানকে ঘিরেই ঘুরতে থাকে তাদের দুনিয়া। কিন্তু এবার আর কোনো টান ঠেকাতে পারল না বিচ্ছেদ। পানিতে ডুবে প্রিয়ঙ্কা রাহুলকে ফেলে চিরতরে হারিয়ে গেলেন রাহুল।

গতকাল ২৯ মার্চ ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন। এ সময় পানিতে নামেন তিনি। আর উঠতে পারেননি। তলিয়ে যান। পরে টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যান তাকে। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন রাহুলকে। জানান, পথিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার।